23.2 C
London
August 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কৃষি ও পর্যটনে কর্মী সংকট মেটাতে গ্রিসে ৩ বছর মেয়াদি মৌসুমি কাজের সুযোগ

গ্রিসে কৃষি, পর্যটনসহ বিভিন্ন মৌসুমি খাতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য বহু-বছর মেয়াদি মৌসুমি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ ব্যবস্থাকে সরাসরি ‘টানা তিন বছর থাকার ভিসা’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি কর্মসংস্থানের অনুমতিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ ও অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয় এবং প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ নয় মাস পর্যন্ত গ্রিসে থাকা যায়।

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আইনে মৌসুমি কর্মীদের জন্য এমন একটি আবাসন অনুমতির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। এর আওতায় একজন বিদেশি কর্মী প্রতি ১২ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ নয় মাস গ্রিসে মৌসুমি কাজ ও অবস্থান করতে পারেন। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রিসের কৃষি ও অন্যান্য মৌসুমি খাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ করা।

এর অর্থ হলো, তিন বছর মেয়াদি কোনো অনুমতি থাকলেও সেটি তিন বছর ধরে গ্রিসে অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাসের অধিকার দেয় না। মৌসুমি কর্মসংস্থানের প্রকৃতিই হলো নির্দিষ্ট সময় কাজ করা এবং মৌসুম শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। গ্রিক সরকারের প্রকাশিত নীতিতেও মৌসুমি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজ দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌসুমি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো নির্দিষ্ট চাকরির চুক্তি। গ্রিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি কর্মীকে গ্রিসে যাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের চুক্তি থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু ভিসা নিয়ে গিয়ে পরে ইচ্ছামতো চাকরি খোঁজার সুযোগ এই ব্যবস্থার মূল কাঠামোর অংশ নয়।

কৃষি খাতে মৌসুমি শ্রমিকের চাহিদা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিকাজের পাশাপাশি পর্যটন ও অন্যান্য মৌসুমি শিল্পেও বিদেশি শ্রমিক ব্যবহারের কথা গ্রিক সরকার জানিয়েছে। দেশটির সাবেক অভিবাসনমন্ত্রীও বলেছিলেন, নয় মাস কাজ এবং বাকি তিন মাস নিজ দেশে ফেরার মডেলটি কৃষি, পর্যটন ও অন্যান্য শিল্পের মৌসুমি চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও গ্রিসের মৌসুমি কর্মসংস্থানের একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গ্রিক সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ বছরের সময়সীমায় প্রতি বছর চার হাজার পর্যন্ত মৌসুমি কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়।

গ্রিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থার আওতায় মৌসুমি কর্মীদের বছরে সর্বোচ্চ নয় মাস অবস্থানের সুযোগ রয়েছে এবং এটি স্থায়ী বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচিত নয়। একই সঙ্গে ওই নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার অধিকারও দেওয়া হয় না এবং এটি সরাসরি নাগরিকত্বের অধিকার সৃষ্টি করে না।

এদিকে গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় বর্তমানে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের মৌসুমি কৃষিশ্রমিক হিসেবে নিয়োগের জন্য নিয়োগকর্তাদের অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থাও রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্ল্যাটফর্মে কৃষি খাতে মৌসুমি কর্মী আনার জন্য নিয়োগকর্তার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

তবে বিদেশে কাজের আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো দালাল বা বেসরকারি এজেন্সির দেওয়া ‘তিন বছরের গ্রিস ভিসা’ কথাটিকে সরাসরি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। প্রকৃত কর্মসূচিতে নিয়োগকর্তা, কাজের চুক্তি, অনুমতির মেয়াদ এবং বছরে অবস্থানের নির্ধারিত সীমা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ‘তিন বছরের ভিসা মানেই টানা ৩৬ মাস গ্রিসে থাকা যাবে’—এমন ধারণা বিভ্রান্তিকর। গ্রিক সরকারের প্রকাশিত নীতিতে মৌসুমি কর্মীদের জন্য প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ নয় মাস অবস্থানের সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌসুমি কর্মীদের ক্ষেত্রে থাকার ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রিত। গ্রিস সরকার ২০২৪ সালে মৌসুমি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার দেওয়া আবাসনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ড নির্ধারণে পৃথক যৌথ মন্ত্রীপরিষদীয় সিদ্ধান্ত জারি করেছে।

সূত্রঃ গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌসুমি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কাঠামো

এম.কে

আরো পড়ুন

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরিফুল খান

বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের আগাম জয় ঘোষণার পরিকল্পনা ঠেকাতে প্রস্তুত ডেমোক্র্যাটরা