9.9 C
London
March 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গ্যাস মজুত মাত্র দেড় দিনঃ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য গ্যাস সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে মাত্র দেড় দিনের মতো গ্যাস মজুত রয়েছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত না হলে আগামী শীত মৌসুমে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

 

যুক্তরাজ্যের গ্যাস পরিবহন অপারেটর ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত তথ্য বলছে, দেশটির গ্যাস মজুত গত বছরের প্রায় ১৮ হাজার গিগাওয়াট ঘণ্টা থেকে কমে এখন ৬ হাজার ৭০০ গিগাওয়াট ঘণ্টায় নেমে এসেছে। এই মজুত বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী মাত্র প্রায় দেড় দিনের জন্য যথেষ্ট। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি হিসেবেও প্রায় একই পরিমাণ গ্যাস ট্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বিপরীতে ইউরোপের অনেক দেশ কয়েক সপ্তাহের চাহিদা মেটানোর মতো গ্যাস মজুত করে রেখেছে।

সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাজ্যকে তুলনামূলক বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ফলে বর্তমানে ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ পাইকারি গ্যাস মূল্য দিচ্ছে দেশটি। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়ার গ্যাস মূল্য বিভাগের প্রধান নাটাশা ফিল্ডিং বলেন, যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ইউরোপের প্রায় সব বাজারের তুলনায় বেশি বেড়েছে এবং দেশটির গ্যাস হাবের মূল্য এখন নেদারল্যান্ডসের প্রধান গ্যাস বাজার ডাচ টিটিএফের চেয়েও বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের গ্যাস সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়াই এই পরিস্থিতির একটি বড় কারণ। দেশটি মজুত থেকে বেশি গ্যাস সরবরাহ করতে পারে না, ফলে প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি বাজার থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। শীতকালীন আবহাওয়া যদি হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে, তবে অন্য ক্রেতাদের তুলনায় বেশি দাম দিয়ে হলেও গ্যাস কিনতে বাধ্য হতে পারে যুক্তরাজ্য।

বর্তমানে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এলএনজি ট্যাংকার এবং নরওয়ে থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে যুক্তরাজ্যের প্রায় ১২ দিনের গ্যাস মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও গত এক দশকে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।

এদিকে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে যে ধাক্কা লেগেছে তা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উৎপাদনে যে বড় ধাক্কা লেগেছিল তার চেয়েও অনেক বড়। ব্যাংকটির মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন যদি দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকে, তবে ২০০৮ এবং ২০২২ সালের রেকর্ড মূল্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে জ্বালানির দাম। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল এরিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাড়তে থাকলে যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে পড়বে। তার মতে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মর্টগেজ সুদের হার বাড়তে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামও বাড়বে।

ন্যাশনাল গ্যাসের প্রধান নির্বাহী জন বাটারওর্থ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যে নতুন গ্যাস সংরক্ষণ অবকাঠামো প্রয়োজন। তার মতে, দেশটির স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অন্তত তিনটি নতুন গ্যাস স্টোরেজ প্রকল্প অথবা ছয়টি বড় এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ ভাসমান স্থাপনা প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, নর্থ সি অঞ্চলে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ায় জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো জানিয়েছে, তারা দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে শিল্পখাতের সঙ্গে কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ইমামকে আটকে রেখে মসজিদে আগুনঃ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ

ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলেও যুক্তরাজ্যে ফেরা সম্ভবঃ রায়ানএয়ার

প্রধানমন্ত্রী নিজের দায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিবের উপর চাপিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনীতিবিদেরা

নিউজ ডেস্ক