যুক্তরাজ্যে কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে নেই—এমন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৫৭ হাজার তরুণ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে, যা এই বয়সসীমার মোট জনসংখ্যার ১২.৮ শতাংশ।
ওএনএস জানিয়েছে, আগের প্রান্তিকের তুলনায় নিট (নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অর ট্রেনিং) সংখ্যা ১১ হাজার বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার। সর্বশেষ প্রান্তিকে তরুণীদের মধ্যে নিটের সংখ্যা ১৩ হাজার বৃদ্ধি পেলেও তরুণদের ক্ষেত্রে ২ হাজার কমেছে। বর্তমানে ৫ লাখ ১০ হাজার তরুণ এবং ৪ লাখ ৪৮ হাজার তরুণী নিট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।
পরিসংখ্যান বলছে, নিট বৃদ্ধির প্রধান কারণ অর্থনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১১ হাজারে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ হাজার বেশি। যদিও অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় তরুণের সংখ্যা ৩৪ হাজার কমে ৫ লাখ ৪৭ হাজারে নেমেছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলান মিলবার্ণ বর্তমানে যুব বেকারত্ব ও কর্মবিমুখতার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত সরকারি পর্যালোচনা কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কর্মসংস্থান ও বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্ম আগের প্রজন্মের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে—এমন আশঙ্কা সমাজে ক্রমেই বাড়ছে। তার ভাষায়, “এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথমবার মানুষ মনে করছে যে পরবর্তী প্রজন্ম আগের চেয়ে ভালো করবে—এই সামাজিক চুক্তি ভেঙে যাচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করছে, যুব বেকারত্ব ১১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে নিয়োগদাতাদের জাতীয় বীমা অবদান বৃদ্ধি এবং তরুণ ও প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি সমতা আনার উদ্যোগকে তারা দায়ী করছেন।
থিংকট্যাঙ্ক রিসোলিউশন ফাউন্ডেশনের চ্যান্সেলর রিচ্যাল রিভসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আসন্ন বসন্তকালীন পূর্বাভাসে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি সমতার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিতে।
পাশাপাশি ১৮ মাস ধরে বেকার থাকা তরুণদের জন্য নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত বেতনভুক্ত কর্মসংস্থানের বয়সসীমা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৪ বছর করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লুইস মারফি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিন লিগার্ডে জানিয়েছেন, ইউরোজোনে এআই উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও এখনো ব্যাপক ছাঁটাই দেখা যায়নি; তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।
অনলাইন খুচরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওকাডো ব্যয় কমানো ও এআই ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন সংস্থা ডাব্লিউপিপি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় পুনর্গঠন ও কর্মীসংকোচনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ, নীতিগত পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগপৎ প্রভাবে যুক্তরাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

