23.6 C
London
September 25, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে সোলাইমানির ছবি রেখে ইরানের অন্যরকম প্রতিবাদ

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় কক্ষ ত্যাগ করেছে ইরানি প্রতিনিধিদল। তবে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ইরানের জন্য নির্ধারিত আসনে দেশটির সাবেক কুদস ফোর্স কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান তারা। ইরানের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে প্রতীকী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার সময় ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সোলাইমানির ছবিটি নিজেদের আসনে রেখে যান।

এর আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের টেবিলে সোলাইমানির ছবি রাখা নিয়ে আপত্তি জানান। ছবিটি সেখানে কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের টেবিলের কাছে গিয়ে সঙ্গে থাকা একজনকে ঘটনাটি ভিডিও করতে বলেন। এ সময় তিনি ইরানকে একটি উপহার দিতে চান বলেও জানান।

ঘটনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সোলাইমানির ছবি রেখে যাওয়ার ঘটনাকে তার উত্তরাধিকার এবং ইরানের অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

বাঘায়ি বলেন, ‘একজন কমান্ডারের মৃত্যু তার অনুসৃত নীতি, স্বার্থ ও অবস্থান পরিত্যাগের অর্থ নয়।’

পোস্টে তিনি পারস্যের মহাকাব্য ‘শাহনামা’ থেকে কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করেন। ফারদৌসির রচিত এই মহাকাব্যে কিংবদন্তি ইরানি রাজপুত্র সিয়াভাশের মৃত্যুর প্রসঙ্গ রয়েছে। সিয়াভাশের স্মৃতির সঙ্গে সোলাইমানির মৃত্যুর তুলনা করে বাঘায়ি বলেন, কোনো বীরকে হত্যা করলেই তার উপস্থিতি বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদর্শ মুছে যায় না; বরং তার স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ইরানি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিনিধিদল কক্ষ ত্যাগ করলেও সোলাইমানির ছবি সেখানে রেখে আসার মধ্য দিয়ে তার মর্যাদা ও উত্তরাধিকারের স্থায়িত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বৈদেশিক অভিযান পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় ইরানি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিও অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। কয়েকজন তাকে দুয়োধ্বনি দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দেন। কক্ষ ত্যাগ করা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু পরে বলেন, যারা এখনো হল ছাড়েননি, তাদেরও বেরিয়ে যাওয়া উচিত।

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা করেন। ইরানকে তিনি ‘হত্যাকারী স্বৈরশাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও নেতানিয়াহু সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। মামদানির নির্বাচনের পর নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সমালোচনা করে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেন নেতানিয়াহু এবং হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইরানি প্রতিনিধিদলের এই কক্ষ ত্যাগ এবং সোলাইমানির ছবি রেখে যাওয়ার ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এমকে

আরো পড়ুন

‘চোখের বদলে চোখ’, হিজবুল্লাহর কঠোর হুঁশিয়ারি

হামাস যথারীতি ক্ষমতার আসনে, শক্তি হারাচ্ছে ইসরাইলঃ ইসরাইলি বিশ্লেষকের দাবি

ইব্রাহিম রাইসি মারা গেলে কে হবেন ইরানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট