বিবিসির নিউজ আওয়ার অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ছেলে ও আওয়ামী লীগের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোটের প্রাপ্ত আসনসংখ্যাকে অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও পুরনো একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ না করা হলেও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং অনেক শীর্ষ নেতাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হয়েও জাতীয় পার্টির একটি আসনও না পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে জামায়াতের ইসলামী জোটের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, সাধারণত জামায়াতে ইসলামী ৫ থেকে ১০টির বেশি আসন পায় না, অথচ এবারের নির্বাচনে তারা প্রায় ৮০টি আসন পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই প্রমাণ হয়, নির্বাচন প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক ছিল না।
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে তিনি রাজি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই কথা বলতে প্রস্তুত। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তুলনা টেনে বলেন, যুক্তরাজ্যে যেমন টরি ও লেবার পার্টি ছাড়া রাজনীতি কল্পনা করা যায় না, তেমনি বাংলাদেশেও এই দুই দল ছাড়া রাজনীতি বাস্তবসম্মত নয়।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত অনেকেই খুশি যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই ‘মধুচন্দ্রিমা’ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সব সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবেই থাকবে।
নিজ দলের জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটভিত্তি প্রায় ৪০ শতাংশ। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির আরও ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোট রয়েছে। এই বাস্তবতায় এসব রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করে রাজনীতি পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে বিবিসি নিউজ আওয়ার, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

