8.7 C
London
November 29, 2025
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

জারা সুলতানার বয়কটে অস্থিরতায় ‘ইওর পার্টি’: নেতৃত্ব প্রশ্নে করবিন–সুলতানার তীব্র মতপার্থক্য

ইওর পার্টির প্রথম সম্মেলন শুরু হতেই গুরুতর অস্থিরতার মুখে পড়ে নতুন এই রাজনৈতিক দলটি। বহিষ্কৃত প্রতিনিধিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এমপি জারা সুলতানা শনিবারের প্রথম দিনের সম্মেলন বর্জন করেন, যা দলীয় নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে তার ও জেরেমি করবিনের মধ্যকার চলমান মতবিরোধকে আরও তীব্র করে তোলে।

করবিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি একক নেতৃত্ব ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন এবং প্রয়োজনে নিজেও নেতা হিসেবে দাঁড়াতে প্রস্তুত। এর বিপরীতে সুলতানা দাবি করেন, দলকে একক ব্যক্তিত্ব দিয়ে পরিচালনা করা উচিত নয় এবং তিনি সমষ্টিগত নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেবেন। সদস্যরা যদি একক নেতা বেছে নেন, তবে প্রয়োজনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নামতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন।

শনিবার সুলতানা কনফারেন্স হলে প্রবেশ না করার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে কয়েকজন সদস্যকে যে পদ্ধতিতে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা “উইচ-হান্ট” ছাড়া কিছু নয়। তার মতে, নতুন উদীয়মান এক বামপন্থী দলে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং দলকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

অন্যদিকে করবিন বলেন, ইওর পার্টির নিয়ম পরিষ্কার—ইলেক্টোরাল কমিশনে নিবন্ধিত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে যোগদান করা যাবে না। তাই এই বহিষ্কারকে তিনি ‘অন্যায়’ বলা বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ পথচলায় দলের ঐক্য সবচেয়ে জরুরি।

দলের ভেতরে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন জানা যায়, সুলতানার এক ঘনিষ্ঠ সমর্থক জেমস গাইলসকে কনফারেন্সে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুক্রবারও আরও কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়। এসব ঘটনাকে ঘিরে করবিনের সহযোগীদের সঙ্গে সুলতানার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই টানাপোড়েনপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সদস্যপদ পোর্টাল ও অনুদান সংগ্রহ নিয়েও দু’জনের মধ্যে পূর্বে উত্তেজনা তৈরি হয়। সুলতানা জানান, তার উদ্যোগে সংগ্রহ হওয়া প্রায় ৮ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ৬ লাখ ইতোমধ্যে দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, বাকিটা দায়-দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়া হবে।

তবে দলীয় দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও সুলতানা দাবি করেন, তিনি করবিনের সঙ্গে “ভালোভাবে কাজ” করছেন এবং সম্মেলনকে সদস্য-ক্ষমতায়িত, ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বানাতেই তারা যোগাযোগ রাখছেন। তবুও তিনি স্বীকার করেন, দলের ভেতরে “বিষাক্ত সংস্কৃতি”, “বুলিং”, “ভয়ভীতি” ও “নাশকতার মতো আচরণ” এখনো রয়েছে এবং তা দূর করা জরুরি।

গ্রিন পার্টিসহ অন্যান্য বামধারার দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা প্রসঙ্গে দু’জনই উন্মুক্ত মনোভাব প্রকাশ করেন। সুলতানার মতে, ফ্যাসিবাদ রুখতে এবং নাইজেল ফারাজকে থামাতে সব বামপন্থী শক্তিকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। করবিনও স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে সমঝোতার সম্ভাবনা বাতিল করেননি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে করবিন দলকে ঐক্যের আহ্বান জানান এবং জনগণের স্বার্থে বিভাজন না বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জনমুখী জলখাত সংস্কার, সামাজিক ন্যায়ের লড়াই এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির কথাও উল্লেখ করেন।

 

রবিবার সুলতানা নির্ধারিত বক্তৃতা দিতে সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। নতুন দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কোন দিকে যাবে—এ প্রশ্ন এখন সদস্যদের ভোটের ওপরই নির্ভর করছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

আকবর গ্রেফতারের ভুয়া খবর প্রচার, জনমনে বিভ্রান্তি

অনলাইন ডেস্ক

ড. ইউনূসকে ট্রাম্পের চিঠি, বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ

সিলেটে মধ্যরাতে আ.লীগ নেতা মিসবাহ সিরাজকে অপহরণ, ভোররাতে উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক