17.7 C
London
October 3, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়বে জি-৭

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে বাজারে ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭। আগামী চার মাসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এই মজুত বাজারে ছাড়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স—এই সাত দেশ জি-৭-এর সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জোটের বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর জি-৭ নেতারা জানান, জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলা এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে সমন্বিতভাবে কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়া হবে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল—দুটিই থাকবে।
জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী চার মাস ধরে আইইএ-এর মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু হবে এবং প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জি-৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে।
তবে কোন অংশীদার দেশ কত পরিমাণ জ্বালানি মজুত থেকে ছাড়বে এবং ঠিক কী গতিতে তা বাজারে আসবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের কৌশলগত মজুত থেকে আরও জ্বালানি বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করতে পারে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপ তাদের বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত শুরু হবে।
তবে পরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ‘আসলে কখনোই টেবিলে ছিল না’।
জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে জ্বালানি ও জ্বালানি-জাতীয় পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
পরিবহন ও কৃষিকাজে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর দাম বেড়ে গেলে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জি-৭ বৈঠকের পর এমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেন, সমন্বিতভাবে জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়ার ফলে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম, বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমতে পারে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও বলেন, এসব পদক্ষেপ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে, সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবে।
বিশ্বের ডিজেল বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রিফাইনারিগুলো প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদন করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহার হয় এবং প্রায় ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানি করা হয়।
যুক্তরাজ্যের জন্যও মার্কিন ডিজেল সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ব্যবহৃত ডিজেলের অর্ধেকের বেশি আমদানি করা হয় এবং আমদানির প্রায় ৩১ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো পাম্পে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২ পাউন্ডের ওপরে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীন থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো আরও চাপের মুখে পড়েছে।
অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় তা আবার প্রায় ১০২ ডলারে উঠে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগে দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।
কেপলারের কমোডিটি গবেষণা পরিচালক ম্যাট স্মিথের মতে, ইউরোপের কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার ঘোষণার পর তেলের দাম কমলেও সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার গুজবের কারণে দাম আবার বাড়তে শুরু করে।
জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জি-৭ নেতারা রিফাইনারিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচিও সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে একই সময়ে একাধিক রিফাইনারি বন্ধ হয়ে গিয়ে বাজারে সরবরাহ আরও কমে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যেসব দেশে অতিরিক্ত পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে, তাদের বিশেষ করে ডিজেল উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে।
এদিকে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে জি-৭। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি নিজস্ব ডিজেল রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা বেশি জটিল এবং পরিবহন ও কৃষিতে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় দ্রুত এর ব্যবহার কমানোও কঠিন। ফলে আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়ার সরবরাহ এবং জি-৭-এর ঘোষিত মজুত বাজারে ছাড়ার কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
এমকে

আরো পড়ুন

ভারতের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিলো আমেরিকা!

নিউজ ডেস্ক

আবারও অশান্ত মণিপুর, কারফিউ জারি, বন্ধ ইন্টারনেট

একদিনে স্টারলিংকের ৮ স্যাটেলাইট স্টেশন গুঁড়িয়ে দিল রাশিয়া!