15.3 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে মামলা হেরে বিপাকে প্রিন্স হ্যারিঃ ৯৫ লাখ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় হেরে গেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও আরও ছয় বিশিষ্ট ব্যক্তি। মামলার পর শুক্রবার তাদের প্রাথমিকভাবে মোট ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাত দাবিদারকে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে এই অর্থের প্রাথমিক পরিশোধ করতে হবে। তবে মামলার চূড়ান্ত খরচ নির্ধারণের পর তাদের আরও অর্থ দিতে হতে পারে।

মামলায় প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে ছিলেন সংগীতশিল্পী স্যার এলটন জন, তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, স্যার সাইমন হিউজ, স্যাডি ফ্রস্ট, অভিনেত্রী লিজ হার্লি এবং ব্যারনেস ডোরিন লরেন্স। তাদের অভিযোগ ছিল, এএনএলের প্রকাশনাগুলো তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

তবে এএনএল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। গত ৭ জুলাই বিচারপতি নিকলিন দাবিদারদের অভিযোগ খারিজ করে দেন। তার পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

শুক্রবার মামলার খরচসংক্রান্ত শুনানিতে বিচারপতি নিকলিন এএনএলের খরচ ‘ইনডেমনিটি’ ভিত্তিতে নির্ধারণের নির্দেশ দেন। সাধারণ ভিত্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে প্রকাশকের খরচ আদায়ের সুযোগ বেশি থাকে।

তবে একই সঙ্গে এএনএলের দাবিকৃত বিপুল খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। প্রকাশক মামলাটি পরিচালনায় মোট ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ দাবি করেছে। বিচারপতি বলেন, ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি খরচের দাবি প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত বলে মনে হচ্ছে এবং এসব খরচ যুক্তিসংগতভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, এএনএলের খরচ মেটানোর জন্য দাবিদারদের সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত বিমা সুবিধা ছিল। ফলে চূড়ান্ত খরচ এএনএলের দাবির কাছাকাছি হলে তাদের নিজেদের অর্থ থেকেও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড দিতে হতে পারে। তবে বিচারপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত খরচ এত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মামলার অন্যতম দাবিদার স্যার সাইমন হিউজ বিবিসিকে বলেছেন, রায়ে তিনি হতাশ। আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে রায় ও খরচসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছেন তিনি।

এর আগে গত মাসে মূল রায় ঘোষণার পর প্রিন্স হ্যারি ও ব্যারনেস ডোরিন লরেন্স এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, তারা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা কোনোটিই পাননি। তারা রায়কে ‘স্পষ্ট ও সম্পূর্ণভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এএনএল প্রাথমিকভাবে ৯৯ লাখ পাউন্ডের বেশি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ চেয়েছিল। বিপরীতে দাবিদারদের আইনজীবীরা ৭৯ লাখ পাউন্ডের কিছু বেশি অর্থ পরিশোধের পক্ষে যুক্তি দেন। শেষ পর্যন্ত আদালত ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড প্রাথমিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

তবে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করার জন্য প্রিন্স হ্যারি ও অন্য ছয় দাবিদারের হাতে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রয়েছে।

এদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের রায়ের কয়েক দিন আগেই প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে স্কুলে ভর্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে সেহরির উৎসবঃ ইষ্ট লন্ডন থেকে ওয়েস্ট লন্ডন, রাতভর জমজমাট রেস্তোরাঁ

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ত্রুটিতে মৃত্যুর মিছিল, স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা চরমে

নারী শিক্ষায় বড় ধাক্কাঃ আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মেয়েদের জন্য যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রকল্প বাতিল