13.2 C
London
April 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চাপে নাইজেল ফারাজ, ভোটারদের অনাস্থা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে নাইজাল ফারাজের রাজনৈতিক অবস্থান। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন তার দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার রিফর্ম দলের প্রতি সমর্থন না দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ফারাজের ট্রাম্প-সমর্থনকে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি স্পষ্ট—প্রায় ২৫ শতাংশ নারী ভোটার সরাসরি এই সম্পর্ককে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নীতি ও আচরণ নিয়ে ব্রিটিশ ভোটারদের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটিই এখন ফারাজের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন নেতৃত্ব যুক্তরাজ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ফলে মধ্যমপন্থী ও নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ রিফর্ম দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে গিয়ে ফারাজ এই বিতর্কের মুখোমুখি হন। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় কর বাতিলের পরিকল্পনা তুলে ধরলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে ট্রাম্প-সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দিতেই হয়।
এ সময় ফারাজ স্বীকার করেন যে তিনি ট্রাম্পকে চেনেন এবং তার কিছু নীতির সঙ্গে একমত। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, সব বিষয়ে তার সমর্থন নেই এবং তিনি নিজেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফারাজের এই অবস্থান কিছুটা রক্ষণাত্মক। অতীতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেও, বর্তমানে তিনি সেই সম্পর্কের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও এই রাজনৈতিক চাপে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে, যা রিফর্ম দলের সমর্থনকে আরও দুর্বল করতে পারে।

এদিকে, ফারাজ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সব বক্তব্য সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা কখনো কখনো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প-ফারাজ সম্পর্ক এখন ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে রিফর্ম দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

করোনার টিকায় প্রজনন ক্ষমতা নষ্টের কোনো প্রমাণ মেলেনি

নিউজ ডেস্ক

ব্র‍্যাডফোর্ড ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি নিত্যদিনের ঘটনা!

অনলাইন ডেস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে লন্ডনে হাজারো মানুষের মিছিল