TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে নতুন গুঞ্জনঃ প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন?

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও বিরোধী জোটের বর্জন ঘোষণার প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আলোচনা জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপা গুঞ্জন রয়েছে—১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তবে একটি গ্রহণযোগ্য ও সর্বদলীয় ব্যবস্থার দাবিতে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ সামনে আসতে পারে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বেসরকারি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম আলোচনায় ঘুরছে। আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এবং অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতার উদ্যোগ নিলে এসব নাম প্রস্তাবের তালিকায় থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এই তিনজনকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য, দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা এবং সিভিল সোসাইটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, এমন ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগ বর্তমান রাজনীতির বাইরে আছে বলেই ধরা হচ্ছে। তবে নির্বাচন বর্জন হলে আওয়ামীলীগের নতুন করে রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও দলটি বরাবরই সংবিধানের বাইরে কোনো শাসনব্যবস্থা নিয়ে সংরক্ষিত মনোভাব পোষণ করে এসেছে। যার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বদলীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো সহজ হবে না বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প পথ হিসেবেও একটি ধারণা রাজনৈতিক অন্দরমহলে ঘুরছে। আলোচ্য ব্যক্তিদের নিয়ে যদি ঐকমত্য তৈরি না হয়, তবে সংবিধানসম্মত বিকল্প হিসেবে সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারপ্রধান করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

এ বিষয়ে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতির পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠান ‘ইস্তিয়াক অ্যাসোসিয়েটস’-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক একটি “বিশেষ বার্তা” পাওয়ার পর তিনি আপাতত তার সব বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করেছেন। তবে এ তথ্যের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তনির্ভর। বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার বাস্তব প্রভাব এবং আওয়ামী লীগের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পথচিত্র। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তা নির্ধারিত হবে দলগুলোর সমঝোতা অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থার গভীরতার ভিত্তিতে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার স্তরে না গিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন ও সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এই গুঞ্জনকে বাস্তব রূপ দেবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতে বাড়াবাড়ি হচ্ছে, বললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

কার নির্দেশে ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে, জানালেন সাবেক আইজিপি

হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন- সেটি পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্তঃ জয়শঙ্কর