6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

তরুণ প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেঃ দক্ষ জনবলের সংকটে ব্রিটিশ ডিফেন্স সেক্টর

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর দক্ষতা সংকটের মুখে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা এলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র ক্যালেবের অভিজ্ঞতা এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ভালো বেতন, নিশ্চিত ক্যারিয়ার ও চাকরির স্থায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিরক্ষা খাতে যোগ দেননি, কারণ মারণাত্মক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত কাজ তার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যায়নি। এমন মনোভাব তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে বলেই মনে করছেন নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এআই-চালিত যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থায় এক বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ এবং নতুন সাইবার ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কমান্ড গঠনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এসব উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল টানতে গিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে, যেখানে কাজের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে নমনীয় ও উদ্ভাবনমুখী।

সরকার স্বীকার করেছে, প্রতিরক্ষা খাতে স্টেম দক্ষতার চাহিদা অত্যন্ত বেশি হলেও স্কুল ও শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পর্যাপ্ত দক্ষতা আসছে না। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েল্ডারের মতো কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ডিজিটাল, সাইবার ও সবুজ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ঘাটতি প্রকট।

নিয়োগ প্রতিষ্ঠান রিড ট্যালেন্ট সল্যুশনসের বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক বাহিনীর প্রতি সামাজিক সমর্থন আগের তুলনায় কমে এসেছে, যার প্রভাব প্রতিরক্ষা শিল্পেও পড়ছে। বিশেষ করে জেন জেড প্রজন্ম কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্দেশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই ধারণা ভাঙতে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালাচ্ছে। মিশন ডিসিশনসের সিইও কলিন হিলিয়ারের ভাষায়, প্রতিরক্ষা খাতে কাজের খুব সামান্য অংশ সরাসরি অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত। অনেক প্রযুক্তিই উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থ্যালেস, যাদের যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম রয়েছে, তারা নিজেদের কেবল সামরিক সরবরাহকারী নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় অবকাঠামো রক্ষাকারী প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এ জন্য তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই স্টেম ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে।

তবে ভাবমূর্তির সমস্যার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতকে রক্ষণশীল ও ধীরগতির বলেও মনে করেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, এখানে পুরোনো সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বেশি, যা দীর্ঘ ৩০–৪০ বছর ধরে চলতে পারে। অথচ তরুণ প্রকৌশলীরা চান আধুনিক নকশা ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে।

এই কারণে ছোট ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা খাতের সাবেক সামরিক সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নতুন প্রতিভা আকর্ষণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থ্যালেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের এক ভূমিকা থেকে অন্য ভূমিকায় যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এবং গ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি নন-গ্র্যাজুয়েট ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারীদেরও নিয়োগ করছে। এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগে সাবেক শিক্ষক ও একজন শেফও জায়গা পেয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ কিছুটা হলেও ফল দিচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন প্রতিরক্ষা বা প্রতিরক্ষা-সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রি প্লেসমেন্ট করছে। তবু নৈতিক প্রশ্ন, উদ্ভাবনের সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতের দক্ষতা সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

সেরা নগরীর তালিকায় ৮ম লন্ডন

নাইজেল ফারাজকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকাতে নির্বাচনি জোট জরুরি

হোম অফিসের চুক্তি বহির্ভূত প্রতিষ্ঠান ভাষা পরীক্ষার জন্য চার্জ করছে অতিরিক্ত ফি