14.7 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

তাহসিফ সাউরির শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেইঃ নাক দিয়ে বের হচ্ছিল রক্ত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে চ্যানেল ২৪।

গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে বলা হয়, তাহসিফের বুক, পেট, পিঠ ও দুই পায়ে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার পেট ফোলা ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহের মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো এবং হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথায় কালো চুল, ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। মরদেহটি শনাক্ত করেন তার খালাতো ভাই জহির হাসান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন তার ছেলে। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে পুলিশের দেওয়া তথ্যে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

তাহসিফের বাবা আরও জানান, তার ছেলে আগে কখনো রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যাননি। ফলে কীভাবে তিনি ওই এলাকায় পৌঁছালেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর তার চলাচল, কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং নদীতে কীভাবে তার মৃত্যু হলো—এসব বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

তাহসিফের বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তার ছেলেকে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। ওই সময়ে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।

এদিকে, ঢাকা রেঞ্জের নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।

তবে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার শরীরে দৃশ্যমান আঘাত না থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ফল এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্রঃ চ্যানেল ২৪

এমকে

আরো পড়ুন

সমন্বয়কদের চাঁদা দাবির খবরে বেদনায় নীল হয়ে গিয়েছিঃ মির্জা ফখরুল

ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল সরকারি দুই সংস্থা, ফোন করেছিলেন পলকও

নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ: ফলকার টুর্ক