গাজা ও লেবানন সীমান্তে সংঘাতের এক মাস অতিবাহিত হলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে তার দেশ যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে এবং ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে, অন্যদিকে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই বাড়ছে তীব্র সমালোচনা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্যে যুদ্ধ জয়ের এক ধরণের ‘আভাস’ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইসরায়েলি বিরোধী দলীয় নেতারা এখন সরাসরি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের কাছে নেই। এছাড়া ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তার সক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে।
ত্রিমুখী আক্রমণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সংকট
সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েল বর্তমানে তিনটি প্রধান দিক থেকে সরাসরি হুমকির সম্মুখীন:
১. ইরান: এক মাস পার হওয়ার পরও ইসরায়েল এখনও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
২. হিজবুল্লাহ: লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট ও মিসাইল হামলা অব্যাহত রয়েছে।
৩. হুথি বিদ্রোহী: ইয়েমেনের হুথিরা এখন ইসরায়েলের জন্য তৃতীয় ফ্রন্ট বা তৃতীয় রণাঙ্গন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই ত্রিমুখী আক্রমণের কারণে ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে। সব দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে এখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত হিসেব করে বা ‘রেশনিং’ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহু প্রশাসন জয়ের দাবি করলেও সামরিক ও কৌশলগতভাবে ইসরায়েল বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এম.কে

