13.7 C
London
March 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ যুদ্ধেই লাভ দেখছে চীন, কূটনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আসন্ন চীন সফর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ঘোষণায় সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে চীনের সহায়তা চেয়েছিলেন এবং দ্রুত জবাব প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে বেইজিং সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বরাবরের মতোই সামরিক অভিযান বন্ধ ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা বা যুক্তরাষ্ট্রকে তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা তাদের জন্য এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার নয়। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ক্ষয় করছে, যা কৌশলগতভাবে চীনের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানিয়েছে, চীন মনে করে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ামুখী মনোযোগ কমে যাবে। এতে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে বেইজিংয়ের সুযোগ বাড়বে। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ পার হলেও ইরান বা ইসরায়েল কেউই পিছু হটার ইঙ্গিত না দেওয়ায় চীনের এই কৌশল আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।

যদিও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীনের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করছে, তবুও এটি তাদের জন্য তাৎক্ষণিক সংকট নয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে কয়েক মাস নির্বিঘ্নে চলা সম্ভব। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে আমদানি বৃদ্ধি এবং ইরান থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল পাওয়ায় চীনা জ্বালানি খাত বরং লাভবান হচ্ছে।

চীন বর্তমান ইরানি শাসনের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেখায় না, তবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারটির টিকে থাকাকে গুরুত্ব দেয়। অতীতে ইরানের রাজতান্ত্রিক শাসনামলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল, ফলে ভবিষ্যতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে তাদের সমস্যা হবে না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করার পর থেকে চীন মধ্যপ্রাচ্যে একটি নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান সংঘাতকে তারা কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পাশাপাশি তেল রফতানি ও অবকাঠামো নিরাপত্তায় চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

একই সঙ্গে চীন এবার জর্ডান, লেবানন ও ইরাকসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে নিজেদের ‘দায়িত্বশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে আঞ্চলিক আস্থা অর্জনের এই কৌশল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

সামগ্রিকভাবে, চীন সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ না হলেও পরিস্থিতিকে নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সংঘাত তাদের নিজস্ব প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে না ফেলছে বা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে না, ততক্ষণ বেইজিংয়ের বর্তমান নীরব ও হিসাবি অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ফিন্যান্সিয়াল টাইমস \ আল মনিটর

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজায় আহতদের চিকিৎসা দিতে চায় স্কটল্যান্ড

দুবাইয়ে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতির রেল বাস চালু

৩ নৌকা থেকে ১৩০০ অভিবাসী উদ্ধার