TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ধনীদের জন্য দ্রুত সুবিধা, শ্রমজীবীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—যুক্তরাজ্য সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার পেতে অপেক্ষার সময় বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাজ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত এবং পরিচর্যা ব্যবস্থায় বিদ্যমান ভয় ও শোষণের পরিবেশকে আরও গভীর করবে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। ইংল্যান্ডে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর মোট কর্মীর পাঁচজনের মধ্যে একজনই অভিবাসী। জাতীয় পর্যায়ে পরিচর্যা খাতেও একই চিত্র দেখা যায়, আর লন্ডনে এই হার প্রায় অর্ধেক। তবু এই শ্রমিকরাই এখন রাজনৈতিক বক্তব্য ও নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন।

সরকারের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কম মজুরির সরকারি খাতের কর্মীদের—যার মধ্যে পরিচর্যাকর্মীরাও রয়েছেন—স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আগের প্রতিশ্রুত পাঁচ বছরের বদলে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে করে বহু শ্রমিক নিজেদের প্রতারিত ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি বলে মনে করছেন।

বর্তমান ভিসা ব্যবস্থায় পরিচর্যাকর্মীদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে কার্যত বেঁধে রাখা হয়। এর ফলে তারা নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে থাকেন। মাসের পর মাস বেতন না পাওয়া, টানা সপ্তাহজুড়ে ছুটি ছাড়া কাজ করা, দীর্ঘ সময় খেটে সামান্য পারিশ্রমিক পাওয়া—এসব অভিযোগ নিয়মিত শোনা যাচ্ছে।

পরিচর্যা খাতে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে প্রতিটি কথোপকথনেই ভিসা বাতিলের আশঙ্কা ঝুলে থাকে। এই চাপ তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে এবং অনেকেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

শ্রমিক সংগঠন ইউনিসন বলছে, সমস্যাটি কয়েকজন অসাধু নিয়োগকর্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনিরাপদ চাকরি, শূন্য ঘণ্টাভিত্তিক কাজ, বেআইনিভাবে কম মজুরি ও শোষণ গোটা পরিচর্যা খাতেই ছড়িয়ে আছে। নির্বাসনের ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের নীরব রাখা হয়। সংগঠনটির মতে, এই ব্যবস্থা কার্যত পরিচর্যা খাতে আধুনিক দাসত্বকে কাঠামোগত রূপ দিয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে মানবিক হতো, তাহলে এই নিষ্ঠুর ব্যবস্থা বাতিল করত। কিন্তু বাস্তবে উল্টো পথে হাঁটা হচ্ছে। যেসব শ্রমিকের শোষণ থেকে মুক্তির সময় খুব কাছাকাছি ছিল, তাদের আরও এক দশক বা তার বেশি সময় একই অনিশ্চয়তায় আটকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই নীতির আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ খোলা রাখা হচ্ছে, সেখানে কম মজুরির শ্রমিকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে সামাজিক বৈষম্য আরও প্রকট হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এদিকে ইংল্যান্ডের পরিচর্যা ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। এজ ইউকে-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ বয়স্ক মানুষ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মী খাত ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, যার প্রধান কারণ কম মজুরি ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ।

অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিলে পরিচর্যা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রেক্ষাপটে সরকার নীতি পরিবর্তন করবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যৌন হয়রানির শাস্তিস্বরূপ অর্থদণ্ড দিতে অক্ষম প্রাক্তন টরি এমপি

যুক্তরাজ্যের মিডল্যান্ডসে খরা ঘোষণা, নদীর পানি রেকর্ড স্তরে নিম্নগামী

ইইউ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হচ্ছেঃ শীর্ষ মানবাধিকার আইনজীবী