TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক সীমা মালোথ্রা ঢাকায় আসছেন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)।

 

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, সীমা মালোথ্রা সোমবার বিকেল ৫টায় ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এসময় প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে সীমা মালোথ্রাও উপস্থিত থাকবেন।

নির্ভরযোগ্য জানায়, সীমা মালোথ্রা বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই সাক্ষাতের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। সাক্ষাৎ হলে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সীমা মালোথ্রা একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে লেবার পার্টির নির্বাচনী বিজয়ের পর তিনি প্রথমে হোম অফিসে পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে এশিয়া-প্যাসিফিক দেশসমূহ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। সীমা মালোথ্রা এই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নীতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সহায়তায় দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

এই সফরের মাধ্যমে সীমা মালোথ্রা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতীক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। মঙ্গলবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হতে ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশসহ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও সার্কভুক্ত দেশগুলো।

এম.কে

আরো পড়ুন

লেবার এমপির রেজিস্টার্ড বিহীন ফ্ল্যাট পিঁপড়ার দখলে

রানি এলিজাবেথের মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোক

সুখ নেই যুক্তরাজ্যে- একটি গবেষণা প্রতিবেদনে রিপোর্ট