চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ালে সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি অধ্যাপক মোহাম্মদ মারান্দি। আল মায়াদিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট স্ট্যান্ডঅফ: ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ তিনি বলেন, তেহরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মাত্রা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন হলেও ইরান এখনো প্রতিরোধ ধরে রেখেছে।
সাবেক পেন্টাগন নিরাপত্তা নীতি বিশ্লেষক মাইকেল মালোফের সঙ্গে আলোচনায় মারান্দি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে এই সংঘাতে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে মূলত একটি ‘অবরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলেও মন্তব্য করেন।
তার অভিযোগ, সরাসরি বোমা হামলা চালিয়ে শুধু সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পরিবর্তে অবরোধের মাধ্যমে একটি দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কিশোর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়লেও দেশটি প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মারান্দির মতে, ইরানের ওপর আরোপিত বর্তমান নিষেধাজ্ঞার তীব্রতা মানব ইতিহাসে তুলনাহীন। এরপরও ইরানিরা নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং আগ্রাসীদের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এর আগে ৪০ দিনের যুদ্ধ, অবরোধ যুদ্ধ এবং ১৩ দিনের সংঘাতেও ইরান টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সতর্ক করেন মারান্দি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো এতে সহযোগিতা করে, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।
ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেও যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা থেকে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পরস্পরের কাছ থেকে সুবিধা পেয়েছে।
আলোচনায় সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিশ্লেষক মাইকেল মালোফও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি চলমান সংঘাতকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেওয়া মার্কিন নীতির অন্যতম বিপর্যয়কর পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
মালোফের দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, বর্তমান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম সামরিক সক্ষমতার একটি দেশ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ করে অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মালোফ আরও বলেন, ইরান, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকার কৌশল শিখেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, এসব ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভবিষ্যতে নিজেদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ আল মায়াদিন
এম.কে

