19.5 C
London
October 4, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘উদ্বেগের’: ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান

ভারতের জন্য পাকিস্তানের সম্ভাব্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্জন ‘উদ্বেগের বিষয়’ হয়ে উঠেছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এই হুমকি মোকাবিলায় ভারতের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে।

আগামী ৮ অক্টোবর ভারতের বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এপি সিং এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের উদ্বেগের পাশাপাশি নিজেদের যুদ্ধবিমান বহরের সক্ষমতা ও ঘাটতির বিষয়টিও উঠে আসে।

এপি সিং বলেন, পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্জনের পথে রয়েছে—এমন তথ্য ভারত পাচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানের পাইলটরা ইতোমধ্যে চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে বিষয়টি ভারতের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভারতের প্রতিকূলে চলে গেছে বলে তিনি মনে করেন না।

ভারতের বিমানবাহিনী প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু একটি উন্নত যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই কোনো দেশের সামরিক শক্তি নির্ধারিত হয় না। যুদ্ধবিমানটি একটি দেশের সামগ্রিক সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত বা সমন্বিত হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উদাহরণ দেন তিনি। এপি সিং বলেন, ওই সময় পাকিস্তানের হাতে বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্ল্যাটফর্ম থাকলেও অভিযানে তারা উল্লেখযোগ্য বা বিশেষ কোনো অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান ও নতুন করে যুক্ত হতে থাকা অস্ত্র এবং সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কার্যকরভাবে সমন্বিত করা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। পাকিস্তান তাদের সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধবিমান পুরো সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে না পারা পর্যন্ত ভারতের বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তবে এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এপি সিং। তার বক্তব্যে ভারতের যুদ্ধবিমান বহরের বর্তমান সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান স্বীকার করেন, দেশটির ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে ভারতের প্রতি বছর অন্তত ৩৬ থেকে ৪২টি নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে তা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান নির্মাতা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড বা এইচএএল বছরে ২৪টির বেশি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানান এপি সিং। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদন ও অন্তর্ভুক্তির হার বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কর্মসূচি নিয়ে এপি সিং বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হলে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

এর আগে ফ্রান্সের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার কাঠামোয় ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ভারত। বর্তমানে ওই প্রস্তাবের দরকষাকষিসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে

এমকে

আরো পড়ুন

ইসলাম অবমাননার অভিযোগে ট্রাম্পের সমালোচনা, যুদ্ধের হুমকিতে উদ্বেগ বাড়ছে

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার মানচিত্র প্রকাশ করল ইরান

লেবাননে ১০ মিনিটে ১৬০ বোমা নিক্ষেপ, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা