TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

পিঁয়াজ আমদানিতে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে ভারতের ব্যবসায়ীরা

ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। নিষেধাজ্ঞায় প্রবল সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় পিঁয়াজ রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

ভারতীয় পিঁয়াজ রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানায়, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বরাত পেয়ে বিপুল পরিমাণ পিঁয়াজ সীমান্তে নিয়ে এসেছিলেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। কিন্তু, হঠাৎ করে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় পিঁয়াজের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়, তা এখন বন্দরেই পচছে।

এই ছবি ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মাহদিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রোপোল স্থল সীমান্তে। এসব সীমান্তে ট্রাক ও গোডাউন মিলিয়ে অন্তত ৩০ হাজার টন পিঁয়াজ বস্তা-বন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রতিদিনই একটু একটু করে পিঁয়াজে পচন ধরছে। আর বিপুল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাজারে পানির দরে এই পিঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছে ভারতীয় রফতানিকারকরা।

মাহদিপুর স্থল সীমান্তের পিঁয়াজ রফতানিকারক সুধীর মন্ডল জানান, বাংলাদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানির বরাত পেয়েই আমরা মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পিঁয়াজ নিয়ে আসি। কিন্তু এই বন্দরে আসার পরই হঠাৎ করে প্রতিবেশী দেশে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপার কারণে পিঁয়াজগুলোকে সীমান্তের একটা গুদাম ঘরে রাখা হয়। এখন তাতে পচন ধরছে। ফলে ৬ রুপি কেজি দরে আমাদের সেই পিঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

মালদার স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, আমরা কেউ ৫০ ট্রাক, আবার কেউ ৭০ ট্রাক পিঁয়াজ নাসিক ও ইন্দোর থেকে কিনে মালদায় নিজেদের গোডাউনে রেখেছিলাম। ২২ রূপি কিলো দরে এক টনের দাম ২২০০ রূপি। কিন্তু এখন সেই পিঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২ থেকে সর্বোচ্চ ১০ রূপি কিলো দরে বিক্রি করে দিতে হচ্ছি।

ভারতীয় ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাসিক ইন্দোর, বেঙ্গালুরু থেকে ২৩ রূপি কেজি দরে আমি প্রায় দেড় হাজার টন পিঁয়াজ নিয়ে এসেছিলাম। স্থানীয়ভাবে লেবার চার্জ পড়েছিল প্রায় এক রূপি। সবমিলিয়ে ২৪ রূপি খরচ পড়েছিল। দুই মাস আগেও যখন রফতানি স্বাভাবিক ছিল আমি ৩০-৩৫ ট্রাক পিঁয়াজ রফতানি করেছিলাম। কিন্তু রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের সেই মজুত রাখা পিঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে আমরা দেরি না করে প্রায় শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে সেই পিঁয়াজ যাড়াই-বাছাই করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছি। ‘

ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কমিটির রাজ্য সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা জানান, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পিঁয়াজ আমদানির কথা বলার পর, ভারতীয় রফতানিকারকরা নাসিকের পিঁয়াজ কিনে এনেছিলেন। কিন্তু আচমকাই নিজেদের দেশের কৃষকদের স্বার্থের কথা বলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় পিঁয়াজের আমদানি পারমিট (আইপি) ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে প্রবল সমস্যায় পড়েছে ভারতের রফতানিকারকরা। মাহদিপুর স্থল বন্দর সংলগ্ন গুদামে মজুত করা পিঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঢাকার ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করছি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় সীমান্তে মজুত থাকা পিঁয়াজের আইপি দেবে। ‘

বাংলাদেশে পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারের অবস্থাও শোচনীয়। সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কার্যত মাথায় হাত। কিছু পিঁয়াজের দাম মাত্র ২ রূপি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গাজিপুর সবজি বাজারের পিঁয়াজ ব্যবসায়ী পারমানন্দ সাইনি জানান, ‘নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু সব অন্য জায়গা থেকে প্রচুর পিঁয়াজ এসেছে। সেখানে এবার ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ থাকায় প্রতি কেজি পিয়াজ ২ রূপিতে বিক্রি হচ্ছে, সবচেয়ে ভালোমানের পিঁয়াজ কেজি প্রতি ১৩ রূপিতে বিক্রি হচ্ছে।

সাইনির দাবি, কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এই স্বল্প দামে বিক্রি করতে গিয়ে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের কমিশন চার্জ দিতে হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচও মেটাতে হচ্ছে। ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা ছোট পিঁয়াজের দাম ১০০ রূপি, সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ১২০ রূপি। ফলে এই দামে পিঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের সাধারণ খরচও ওঠে না। ‘

সরকারি সংস্থাগুলোকে নিশানা করে আরেক ব্যবসায়ী সুচ্ছা সিং’এর অভিযোগ করেন, যখন পিঁয়াজের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি, এমন একটা সময় তারা আগের মজুত করা পিঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ। ফলে এমনিতেই প্রচণ্ড ক্ষতি হচ্ছে। বাজারে পিঁয়াজের মজুদ জমে যাচ্ছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেই সাথে আমরা, ব্যবসায়ীরাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি কারণ কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতেই হয়, আমরা তা ফেরত দিতে পারছি না, আবার সেই পিঁয়াজ দ্রুত সরবরাহও করা যাচ্ছে না।

পণ্য রফতানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলছেন, অযথা মজুতদারি বন্ধ করতে ভারত সরকারের উচিত বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট মজুতসীমা নির্ধারণ করা। তার অভিমত, ভারতের পিঁয়াজ রফতানি বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। রফতানি ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যাতে এক দেশের সাথে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে, আমরা অন্য দেশে পণ্য সরবরাহ করতে পারি, যাতে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশী হাবিবুর মাসুমের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক

সরকারি চাকুরিতে ফিরছেন ডা. জোবাইদা রহমান

পলাতক নেতাদের ২৬ মার্চ দেশে ফেরা উচিত, বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা