TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ফারাক্কার জবাব দিতে আসছে পদ্মা ব্যারাজঃ অনুমোদন মিলল ৩৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও লবণাক্ততার সমস্যা সমাধানে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিপরীতে ২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নে আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩,৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতুর পর এটিকে দেশের আরেক ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্প হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ব্যারাজ শুধু সেচ ও পানি সরবরাহ নয়, উৎপাদন করবে বিদ্যুৎও।

ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজঃ

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। নতুন করে কোনো চুক্তি না হলে বা পানি বণ্টনে জটিলতা তৈরি হলে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এই অঞ্চলে। পদ্মা ব্যারাজ সেই সংকটের একটি টেকসই সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পের মূল সুবিধা কী কী?

· সেচ সুবিধা: বর্ষাকালে পদ্মা নদীর অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে তা খরা মৌসুমে নদীগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। ফলে কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, বরিশালসহ মোট ২৪টি জেলার প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত হবে।

· লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ: উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হবে, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

· জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: ব্যারাজটি থেকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে, কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার ছাড়াই প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নঃ

বাংলাদেশ সরকার দেশের স্বার্থে এই বিশাল মেগা প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে বলে একনেক সভায় জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এবং সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৩ সালের মধ্যে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু একটি পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়; এটি ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনে বাংলাদেশকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই মেগা উদ্যোগ।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

আশ্রয়ের খোঁজে সিলেট আ.লীগের পলাতক নেতারা, কেউ অপেক্ষায় আত্মসমর্পণের

সিলেটে জ্বালানি তেলের খনির সন্ধান

বাংলাদেশিদের জন্য আবারও টুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারতঃ শুরু ২৮ জুন