19.2 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘ফিরে আসা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার কবরও জুটবে না’: সারজিস আলম

‘ফিরে আসা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার কবরও জুটবে না’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, শেখ হাসিনা ‘এতই পাপ করেছেন’ এবং তার পতন ‘এতই নির্লজ্জ’ হয়েছে যে বাংলাদেশে তার সমাধিও হবে না। তার ভাষায়, এটি শেখ হাসিনার ‘কর্মফল’ যে বাংলাদেশের মাটিতে তার কবরও জুটবে না।

সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়েও বক্তব্য দেন সারজিস। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে ‘সেকেন্ডারি প্রতিনিধি’ হিসেবে থাকেন। বাস্তবে জেলা পরিষদ ও এর সদস্যদের মাধ্যমেই পার্বত্য জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, পার্বত্য অঞ্চলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি এতটাই প্রভাবশালী যে কাউকে সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান—এই দুই পদের মধ্যে বেছে নিতে বলা হলে অনেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পক্ষেই মত দেবেন। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্যের মধ্যে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য পদকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা পরিষদগুলোকে বিএনপির স্থানীয় কমিটির মতো করে পরিচালনা করা হলে সেখানে গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন সারজিস আলম। এ বিষয়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রাখেন এবং জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই তুলনায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সারজিস। তার দাবি, জেলা পরিষদগুলোকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের চর্চা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি যে ধরনের নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, বর্তমানে বিএনপিই সেই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে চিত্র ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছিল, বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগেরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন খাতে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণই শেষ পর্যন্ত কোন দলকে সমর্থন করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও মন্তব্য করেন সারজিস।

সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার তুষার বলেন, বাংলাদেশের বহু জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সবাইকে একটি একক পরিচয়ে পরিচিত করার বিষয়টি এনসিপি সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেক জাতিসত্তার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

সরোয়ার তুষার বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও করেন। তার দাবি, পার্বত্য এলাকায় বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে একজন সংসদ সদস্যকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সরিয়ে বাইরে থেকে আরেকজনকে সংসদ সদস্য করে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালেরও সমালোচনা করেন সরোয়ার তুষার। তিনি বলেন, মীর হেলাল প্রভাবশালী হওয়ায় তার অধীনে কেউ কাজ করে শান্তি পাবেন না। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে তিনজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্রঃ এখন টিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সলিড কোকেনের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ

ভারত যাচ্ছেন জয়, সাক্ষাৎ হবে শেখ হাসিনার সঙ্গে!

অবশেষে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাংলাদেশের জন্য এলো সুখবর