ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতাকে মুসলিম, অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উগ্র ডানপন্থী মহলের বিরুদ্ধে। এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা হলেও, ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মুসলিম বা অভিবাসীদের সম্মিলিতভাবে দায়ী করার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফরাসি কর্তৃপক্ষ সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও সুযোগসন্ধানী বিশৃঙ্খলাকারীদের দায়ী করেছে। তবে মুসলিম বা অভিবাসীরা সম্মিলিতভাবে এ সহিংসতার জন্য দায়ী—এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিক মেরিন লে পেনও প্রকাশ্যে মুসলিম ও অভিবাসীদের দায়ী করে এমন অভিযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এ বক্তব্য প্রধান বয়ান হয়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের কয়েকজন ভাষ্যকার ফ্রান্সের অস্থিরতার সঙ্গে অভিবাসন ও ইসলামকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বক্তব্যে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে ফ্রান্সের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ নেমে এসেছেন। বিক্ষোভকারীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অস্থিরতায় কোনো কোনো মুসলিম বা অভিবাসী ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। তবে কয়েকজন ব্যক্তির অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পুরো মুসলিম বা অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা যায় না বলে বক্তব্যটিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিবিশেষের কর্মকাণ্ড কোনো পুরো সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অপরাধের প্রমাণ নয়। রাজনৈতিক অভিযোগও নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প হতে পারে না।
সূত্রঃ লে মন্ডে\এপি
এমকে

