TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বহিষ্কারের আগে নাটকীয় ঘটনাঃ এক বন্দির কারণে বাতিল হোম অফিসের চার্টার ফ্লাইট

এক বন্দির বিপজ্জনক আচরণের কারণে যুক্তরাজ্যের একটি বেসরকারি বহিষ্কার ফ্লাইট শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কারের ঠিক আগে ভেপ যন্ত্রের লিথিয়াম ব্যাটারি গিলে ফেলেন ওই ব্যক্তি, ফলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নিতে হয় এবং পুরো অভিযানে বিঘ্ন ঘটে।
বৃহস্পতিবার সকালে হোম অফিসের উদ্যোগে পরিচালিত চার্টার ফ্লাইটটি বাতিল হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তি একজন মিশরীয় নাগরিক এবং দণ্ডিত বিদেশি অপরাধী, যার বিরুদ্ধে আগেও বহিষ্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগ রয়েছে। তাকে যুক্তরাজ্য থেকে আলবেনিয়া হয়ে মিশরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য বহিষ্কৃতদের সঙ্গে আলবেনিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে একটি আলাদা বেসরকারি বিমানে মিশরে যেতেন। এই অংশে উড়োজাহাজটি কার্যত শুধু ওই ব্যক্তির জন্যই নির্ধারিত ছিল, সঙ্গে থাকতেন নিরাপত্তারক্ষী ও ফ্লাইট ক্রু। নির্ধারিত যাত্রার আগে কয়েকদিন তাকে পৃথক আটক ব্যবস্থায় রাখা হয়েছিল।

আটক অবস্থায় থাকা সময়েই তিনি একটি ভেপ ডিভাইস পান এবং সেখান থেকে লিথিয়াম ব্যাটারি গিলে ফেলেন। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে আবার তাকে আটক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়, তবে ততক্ষণে আলবেনিয়া থেকে মিশরগামী চার্টার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।

হোম অফিসের পক্ষে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মিটি জানায়, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাদের প্রধান অগ্রাধিকার সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

হোম অফিস নিয়মিতভাবে বেসরকারি উড়োজাহাজ ভাড়া করে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে, বিশেষ করে আলবেনিয়ায়। তবে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জন্য আলাদা করে উড়োজাহাজ চার্টার করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা এবং সাধারণত এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই করা হয়, যাদের বহিষ্কারে বারবার বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটটির মোট ব্যয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হোম অফিসের বহিষ্কার অভিযানে বেসরকারি বিমান ব্যবহারের খরচ অনেক সময় কয়েক লক্ষ পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা নিয়ে অতীতেও সমালোচনা হয়েছে।

হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, “অশান্ত আচরণের মাধ্যমে বহিষ্কার ঠেকানো যাবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে।” একই সঙ্গে জানানো হয়, মিটির চলমান তদন্তে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

উল্লেখ্য, মিটি এর আগেও বহিষ্কার কার্যক্রম ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এক ঘটনায়, হিথ্রো বিমানবন্দরে বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা এক ব্যক্তি পাহারা এড়িয়ে রানওয়েতে পালিয়ে যান।

এছাড়া আশ্রয়প্রার্থী প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত সাবেক সামরিক ঘাঁটি ম্যানস্টনে ব্যবস্থাপনা ত্রুটি নিয়ে তদন্তের পর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পরও প্রতিষ্ঠানটি হোম অফিসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির দায়িত্বে রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার এমপি জামিনে মুক্ত

করোনার টিকা নিলেন ব্রিটেনের রানি

যুক্তরাজ্যের এক সাংসদের দুইবার শপথবাক্য পাঠ