TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নির্বাচন ইস্যুতে ব্রিটিশ দূতের দিল্লি মিশন ব্যর্থ

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের আকস্মিক দিল্লি সফর কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নজিরবিহীন এক ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সাউথ ব্লক) তার সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ না করে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ জানানোয় গত ২১ জানুয়ারি ভারত সরকার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সারাহ কুক ১৯ জানুয়ারি ঢাকা থেকে দিল্লি পৌঁছান এবং ২২ জানুয়ারি তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে অবস্থানকালে সারাহ কুক বিভিন্ন তথাকথিত “বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের” সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে দিল্লিতে অবস্থিত যুক্তরাজ্য হাইকমিশনে একটি বিকল্প বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুজন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত আরেক সাবেক কূটনীতিক বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান, যা বৈঠকের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

ওই বৈঠকে সারাহ কুক বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে “খুবই ভালো” বলে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনকে “গণতান্ত্রিক” হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকলে সেটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না।

তবে উপস্থিত সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকরা তার এই মূল্যায়নের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতন, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে “অকাট্য প্রমাণ” তুলে ধরেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে আখ্যায়িত করেন।

দিল্লি সফরের ঠিক আগেই ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সারাহ কুকের বৈঠক নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। এই সাক্ষাৎ ও পরবর্তী দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৩–২৪ সালে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে যৌথভাবে কুক বাংলাদেশে “অবাধ ও সুষ্ঠু” নির্বাচনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এই ঘটনাকে ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার দিল্লি সফরের সঙ্গে তুলনা করছে। সে সময়ও ভারত সরকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এড়িয়ে তাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বিষয়ক যুগ্ম সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কেউই বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে চাপে রেখে এবং জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে কৌশলগত ছাড় দিয়ে নিজেদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে—যা ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সূত্রঃ নর্থ ইস্ট নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

শেখ হাসিনাকে ‘চুপ’ রাখতে পারবেন না মোদিঃ প্রধান উপদেষ্টা

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য প্রস্তুত লাউঞ্জ, থাকবে বিশেষ সুবিধা

যোগ্যকে বাদ দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ বাগিয়ে নেন পুতুল