12.9 C
London
October 19, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাঃ শ্রীলঙ্কা সাজা স্থগিত করাতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যর্থ

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আটক, বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আগে থেকে অবহিত করেনি বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দুই নাগরিকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তাদের আইনি সহায়তা, আপিলের সুযোগ এবং কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কী পদক্ষেপ নিয়েছিল? যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকে জানানো না হয়ে থাকে, তাহলে সেই তথ্য জানার চেষ্টা, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে তুলনায় এসেছে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের মামলা। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজান শিবরাজের মৃত্যুদণ্ড ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর সৌদি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে। শ্রীলঙ্কা সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। দেশটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবে প্রতিনিধিদল পাঠানো, আইনজীবীদের সহায়তা এবং আপিলপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজান শিবরাজ মুক্তি পেয়েছেন—এমনটি বলা ঠিক হবে না। তার মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য মূল আদালতে ফেরত পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, শ্রীলঙ্কার উদ্যোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ঠেকেছে এবং নতুন করে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের দুই নাগরিকের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ায় একই ধরনের উদ্যোগের ফল পাওয়ার সুযোগ আর নেই।

১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক আটক হলে নির্দিষ্ট শর্তে তার কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে আটক ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার দেশের কনস্যুলার দপ্তরকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। তবে এই বিধানের প্রয়োগ ও সৌদি কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণে মামলার বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

শ্রীলঙ্কার নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক উদাহরণ। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে বাঁচানো সম্ভব ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের তৎপরতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে জানান পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশ্লেষকেরা। তারা জানান, নাগরিকদের জীবন রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, কোথায় ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা\ সানডে টাইমস

এমকে

আরো পড়ুন

গ্রেপ্তার নয়, মৃত্যু সনদ সংগ্রহে ব্যারিস্টার মইনুলের বাসায় গিয়েছিল পুলিশঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নির্বাচন বন্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য, আন্দোলন সহিংস হতে পারে—ভারতীয় গণমাধ্যমে হাসিনাপুত্র জয়

৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে হাম, টিকা সম্পন্ন না হলে বড়রাও ঝুঁকিতে