ভারতের বহির্গোপন অনুসন্ধান সংস্থা রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইংয়ের ভেতরে ছদ্মপরিচয়ে কাজ করা এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে ঘিরে বহু বছর ধরে আলোচনা চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘দেওয়ান চাঁদ মল্লিক’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা দপ্তর ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স-এর হয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশদ স্বীকারোক্তি দেয়নি।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংস্থাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারে দায়িত্ব পালন করতেন। যাকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা পরিপূর্ণ ট্রেনিং সম্পন্ন করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, উপগ্রহচিত্র ও সামরিক চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তার প্রবেশাধিকার ছিল বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
খবরে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা এলাকায় বসবাসের পরিচয় গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার কারণে বাংলাদেশি ব্যক্তিটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থায় দ্রুত উচ্চপদে উন্নীত হন এবং সংস্থার আস্থাভাজন কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। তার অধীনে বহু কর্মী কাজ করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত নথি দেখার সুযোগ ছিল।
বাংলাদেশি ব্যক্তি হয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করা ঘটনাটি ২০০৫ সালে প্রকাশ্যে আসে। পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষিতে তার ভারতীয় স্ত্রী আদালতে হলফনামা দিয়ে দাবি করেন, তার স্বামী প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নন, তিনি বাংলাদেশি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয় এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত শুরুর খবর পেয়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি ব্যক্তি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। ভারতের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার সন্ধানে তৎপরতা চালায়, কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও তিনি পালাতে সক্ষম হন।
এরপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। কেউ বলেন তিনি বাংলাদেশে অন্য পরিচয়ে অবস্থান করছেন, আবার কেউ বলেন তাকে ভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার গোপন ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সত্যতা যাই হোক, এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রগুলোর নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মানবসূত্রভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো সত্য প্রকাশ পায় না, কিন্তু ইতিহাসে এমন গল্প থেকে যায় দীর্ঘদিন।
তথ্যসূত্রঃ https ://ww w.dn aind ia .com/analysis/editorial-raw- truths-1103158
https ://m.h indu stantime s.c om/india/bangladeshi-worked- for-r-aw-for-6-years/story- Uf6RDpK51dvMPbh9NQUbtK.html
এম.কে

