13.3 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যুঃ পরিস্থিতি নজরদারিতে ডব্লিউএইচও

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনাটি উদ্বেগজনক হলেও জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে এই রোগের বিস্তার ঝুঁকি বর্তমানে কম রয়েছে।

 

ডব্লিউএইচও জানায়, ২৮ জানুয়ারি আক্রান্ত ওই নারী রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর তার গলার সোয়াব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরদিন পরীক্ষাগারে নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। রোগী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ডব্লিউএইচওর বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট রাজশাহী বিভাগে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত একটি নিশ্চিত ঘটনার বিষয়ে সংস্থাটিকে অবহিত করে।
মৃত রোগী নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়েছে। ২১ জানুয়ারি তার জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়।

রোগীর কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণ ইতিহাস পাওয়া যায়নি, তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর রোগীর সংস্পর্শে আসা আরও ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কারও শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে মোট ৩৪৮টি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গেই কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস জড়িত।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সাধারণত মৌসুমি এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই সময়টিই খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার মৌসুম হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নিপাহ ভাইরাসের দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও ডব্লিউএইচও ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেনি।

ডব্লিউএইচও তাদের মূল্যায়নে জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক বিবৃতিতে নিপাহকে “বিরল কিন্তু মারাত্মক রোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে রোগ নজরদারি, পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

রয়টার্সে দেওয়া আমার বক্তব্য ভুলভাবে এসেছেঃ মাহফুজ আবদুল্লাহ

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে কাজ শুরু করেছে দুদক, আসছে এফবিআই