যুক্তরাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত বৃহত্তম এআই সুপারকম্পিউটার প্রকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটে বড় ধরনের বিলম্বের মুখে পড়েছে। এসেক্সের লফটনে নির্মাণাধীন এই ডেটাসেন্টারটি ২০২৭ সালে চালুর কথা থাকলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় প্রকল্পটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
২০২৫ সালে প্রকল্পটি ঘোষণা করার সময় ব্রিটিশ সরকার এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ‘সার্বভৌম এআই ডেটাসেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। যুক্তরাজ্যের এআই কৌশলের অংশ হিসেবেও লফটনের এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এখন এর নির্ধারিত সময়সূচিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
প্রকল্পটির নির্মাতা যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনস্কেল। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর ৩৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যায়নে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে প্রকল্পটি যুক্ত করার দায়িত্বে থাকা ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস বা ইউকেপিএন জানিয়েছে, লফটনের ডেটাসেন্টারকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকের আগে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এ বিষয়ে এনস্কেল জানিয়েছে, তারা প্রকল্পটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে গ্রিড সংযোগের প্রক্রিয়া দ্রুত করা যায় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির নির্ধারিত স্থানে আগে একটি স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবসার কার্যক্রম চলছিল। চলতি বছরের মার্চে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, তখনও জায়গাটি পুরোপুরি ডেটাসেন্টার নির্মাণের উপযোগী হয়নি। বর্তমানে এনস্কেল ওই স্থানটি পরিষ্কার করেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে বড় ডেটাসেন্টার প্রকল্পগুলোর জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেমের তথ্যেও। জুন মাসে অফজেম জানায়, জাতীয় গ্রিডে সংযোগের অপেক্ষায় ৩১৫টি ডেটাসেন্টার প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা মোট ৭৩ গিগাওয়াট, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৪৫ গিগাওয়াট।
লফটনের প্রকল্পটি একাই সর্বোচ্চ ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা চাচ্ছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান।
ইউকেপিএন জানিয়েছে, বড় বিদ্যুৎ চাহিদার অনেক ডেটাসেন্টার তাদের স্থানীয় বিতরণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেও জাতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।
ন্যাশনাল গ্রিডও জানিয়েছে, তারা ন্যাশনাল এনার্জি সিস্টেম অপারেটর, বিতরণ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রক্রিয়া দ্রুত করা যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা যায়।
এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে ডেটাসেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে লফটনের প্রকল্পের বিলম্ব শুধু একটি নির্দিষ্ট ডেটাসেন্টারের সময়সূচির সমস্যা নয়; বরং বড় আকারের এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিড সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেটিও সামনে এনেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

