TV3 BANGLA
স্পোর্টস

বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররাঃ যদিও এম. নাজমুলের পক্ষে সাধারণ দর্শক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের বেতন ও পেশাদারিত্ব নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামীকাল বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বয়কট করবে।

 

বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জুম বৈঠকে কোয়াব সভাপতি মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় জানান, দায়িত্বশীল একজন বোর্ড পরিচালক এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের সম্মান ও পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেই তাৎক্ষণিকভাবে নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। দাবি মানা না হলে কোনো ক্রিকেটার মাঠে নামবেন না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাজমুল ইসলামের মন্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং এটি পুরো ক্রিকেট অঙ্গনকে আহত করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম বিভাগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তবে কোয়াব সভাপতির বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। অনেক নেটিজেন ক্রিকেটারদের অবস্থানের বিরোধিতা করে নাজমুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়ান। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন পর একজন বিসিবি পরিচালক প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের মনের কথা বলছেন। ক্রিকেটারদের পক্ষে ‘দালালি’ বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকরা আরও দাবি করেন, মাঠের পারফরম্যান্সে ক্রিকেটাররা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও ক্রিকেট ঘিরে জুয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তারা কোয়াব সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই এখন সংগঠনটির প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিসিবি আগেই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য অনুপযুক্ত, আপত্তিকর বা আঘাতজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়া পরিচালকদের ব্যক্তিগত মন্তব্য বিসিবির নীতি বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

বোর্ড আরও জানায়, ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান বা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম ক্ষুণ্ন হলে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের হয়ে নিষ্ঠা ও গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

তবে নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে ঘিরে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাৎক্ষণিক সমাধান না এলে বিপিএলের ম্যাচ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ক্রিকেট প্রশাসন ও ক্রিকেটারদের মধ্যে সমঝোতা ও আলোচনাই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে অনলাইনে ইতোমধ্যেই নাজমুল ইসলামের একটি সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। তাদের মতে, তিনি একজন সৎ মানুষ বলেই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এমন মানুষ ক্রিকেট প্রশাসনে থাকলেই দেশের ক্রিকেট দালাল ও জুয়াড়িদের প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে যা বললেন সাকিব

বরখাস্ত হচ্ছেন হাথরু, নতুন কোচ ফিল সিমন্স

‘পুঁচকে’ যুক্তরাষ্ট্রও টি-টোয়েন্টি শিখিয়ে গেল বাংলাদেশকে