যুক্তরাজ্যে প্লাস্টিকযুক্ত একবার ব্যবহারযোগ্য ওয়েট ওয়াইপস বিক্রি ও সরবরাহ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে আগামী এক বছরের মধ্যে চারটি দেশেই ধাপে ধাপে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ডেইলি মিরর।
পরিবেশ আইন চারটি প্রশাসনে আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের তারিখও আলাদা হবে। ওয়েলসে প্রথমে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ১৮ মে ২০২৭, ইংল্যান্ডে ১৯ মে ২০২৭ এবং স্কটল্যান্ডে ১১ আগস্ট ২০২৭ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর খুচরা বিক্রেতারা প্লাস্টিকযুক্ত প্রচলিত একবার ব্যবহারযোগ্য ওয়েট ওয়াইপ বিক্রি বা সরবরাহ করতে পারবেন না। এর আওতায় থাকবে শিশুর ব্যবহারের ওয়াইপস, টডলার ওয়াইপ, মেকআপ পরিষ্কারের ওয়াইপস, মুখ পরিষ্কারের ওয়াইপস, প্রসাধনী ব্যবহারের শিট মাস্ক, ভেজা টয়লেট টিস্যু, জীবাণুনাশক হাত মোছার ওয়াইপস, ডিওডোরেন্ট ও শরীর পরিষ্কারের ওয়াইপস এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন ওয়াইপস।
এ ছাড়া ঘর পরিষ্কারের ওয়াইপস, রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারের ওয়াইপস এবং মেঝে পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত ভেজা ওয়াইপসও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
তবে সব ধরনের ওয়েট ওয়াইপস পুরোপুরি বাজার থেকে উধাও হবে না। বাঁশ বা উদ্ভিদজাত আঁশের মতো জৈবভাবে পচনশীল ও প্লাস্টিকমুক্ত উপাদানে তৈরি একবার ব্যবহারযোগ্য ওয়াইপস এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প ব্যবহার করা যাবে।
পেশাদার চিকিৎসা, শিল্প উৎপাদন ও গবেষণাগারের কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকযুক্ত ওয়াইপের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকলে নিবন্ধিত ফার্মেসিগুলো থেকেও এসব ওয়াইপ সরবরাহ করা যাবে। তবে সাধারণ দোকানে এগুলো প্রদর্শন বা বিক্রি করা যাবে না।
প্লাস্টিকযুক্ত ওয়েট ওয়াইপস নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারণ হিসেবে এর পরিবেশগত ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। টয়লেটে ফ্লাশ করার পর এসব ওয়াইপ সহজে পচে যায় না। ফলে এগুলো নর্দমা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় জমে বড় ধরনের বাধা তৈরি করতে পারে। চর্বি ও অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে মিশে এগুলো বড় আকারের শক্ত স্তূপ বা ‘ফ্যাটবার্গ’ তৈরি করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নর্দমা ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া প্রায় ৯৪ শতাংশ বাধার সঙ্গে ওয়েট ওয়াইপসহ এ ধরনের বর্জ্যের সম্পর্ক রয়েছে এবং এসব বাধা পরিষ্কার করতে বছরে আনুমানিক ২০ কোটি পাউন্ড খরচ হয়।
প্লাস্টিকযুক্ত ওয়াইপস নদী ও সমুদ্রেও পৌঁছে পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এগুলো ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণায় পরিণত হয়ে জলজ পরিবেশ ও প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের মজুত পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

