5.4 C
London
February 18, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলেও যুক্তরাজ্যে ফেরা সম্ভবঃ রায়ানএয়ার

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন বিধি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, ইউরোপে অবস্থানরত দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলেও যদি কোনো যাত্রী বিকল্প নথির মাধ্যমে নিজের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তাকে যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে ওঠার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অবশ্যই বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন দেখাতে হবে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে হোম অফিস–এর পক্ষ থেকে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবে। নিয়ম কার্যকরের খবরে ইউরোপে বসবাসরত বহু ব্রিটিশ নাগরিক চরম উদ্বেগে পড়েন।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তানরা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এখনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট পায়নি, তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করতেন, কিন্তু হঠাৎ করে এই পরিবর্তন যথাযথভাবে জানানো হয়নি।

রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যদি নিশ্চিত হতে পারে যে কোনো যাত্রী ব্রিটিশ নাগরিক, আইরিশ নাগরিক অথবা যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের অধিকার রাখেন, তাহলে তাকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট, রাইট অব অ্যাবোড সনদ এবং পুরোনো অনির্দিষ্টকালের থাকার অনুমতির সিল বা ভিনিয়েট গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে জন্মসনদ বা নাগরিকত্ব সনদ এককভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কি না—এ বিষয়ে এয়ারলাইনটি স্পষ্ট কিছু জানায়নি। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী, যেসব যাত্রীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার নেই, তাদের বহন করলে এয়ারলাইনগুলোকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে বোর্ডিংয়ের সময় নথি যাচাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানুয়ারিতে প্রকাশিত হাউস অব কমন্সের এক ব্রিফিং পেপারে বলা হয়েছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া যায় না। তবে তাকে অবশ্যই তার ‘রাইট অব অ্যাবোড’ বা স্থায়ী প্রবেশাধিকারের প্রমাণ দিতে হবে।
নতুন বিধির মানবিক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কানাডা থেকে এক দ্বৈত নাগরিক জানান, মৃত্যুপথযাত্রী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তিনি নিয়ম কার্যকরের আগেই ফ্লাইটের তারিখ এগিয়ে এনেছেন। তার ভাষায়, একজন ব্রিটিশ নাগরিককে শুধুমাত্র পাসপোর্ট না থাকার কারণে নিজ দেশেই ঢুকতে না দেওয়ার ভাবনাটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত ও এয়ারলাইনগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য জুড়ে অভিবাসন বিতর্ক আসলে ‘সৃষ্ট আতঙ্ক’, বলছে দাতব্য সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীরা

ব্রেক্সিট ব্যর্থতার পর নতুন পথঃ ইইউর সঙ্গে যুব মোবিলিটি স্কিমে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য

প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক