ব্রিটেনের সরকার নিশ্চিত করেছে, লন্ডনসহ ইংল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরগুলোতে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকরাও বিনামূল্যে এসব জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
এর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ন্যাশনাল গ্যালারিসহ আরও বেশ কয়েকটি জাতীয় জাদুঘর।
এর আগে চলতি বছর ইংল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের একটি পর্যালোচনার পর এমন প্রস্তাব সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যারোনেস মার্গারেট হজ যুক্তরাজ্যের সাংস্কৃতিক খাতের জন্য এমন ব্যবস্থা বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে বিষয়টি পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি নেওয়ার সম্ভাব্য সুবিধার তুলনায় এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি হতে পারে। ফলে সবার জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইংল্যান্ডে সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা ডিসিএমএসের অর্থায়নে পরিচালিত মোট ১৫টি জাতীয় জাদুঘর রয়েছে। এর বেশিরভাগই লন্ডনে অবস্থিত। ২০০১ সাল থেকে এসব জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহ পরিদর্শনে সাধারণত বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় জাদুঘরগুলোতে প্রতিবছর প্রথমবারের মতো আসা পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দর্শনার্থী—মিলিয়ে লাখ লাখ মানুষ যান। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি অবদান রাখে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের বিবেচনায়, বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি চালু করা হলে স্থানীয় দর্শনার্থীদের মধ্যেও এসব জাদুঘরে যাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে।
জাতীয় জাদুঘরগুলোর কার্যক্রম ও সংগ্রহ সংরক্ষণে সহায়তার জন্য বিভিন্ন তহবিলও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ কোটি পাউন্ডের ‘আর্টস এভরিহোয়্যার ফান্ড’, ১৬ কোটি পাউন্ডের ‘মিউজিয়াম এস্টেটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ এবং ১ কোটি ৩৬ লাখ পাউন্ডের ‘মিউজিয়াম ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম’ থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি পর্যটকরাও আগের মতোই কোনো প্রবেশ ফি ছাড়াই ব্রিটিশ মিউজিয়াম, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম, ন্যাশনাল গ্যালারিসহ ইংল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন।
সূত্রঃ সিক্রেট লন্ডন
এমকে

