23.2 C
London
August 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে গোয়েন্দা সংস্থার নিয়োগে ‘বর্ণবৈষম্য’র অভিযোগ নাইজেল ফারাজের

যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, এমআই-ফাইভ ও জিসিএইচকিউর চলতি বছরের গ্রীষ্মকালীন গোয়েন্দা ইন্টার্নশিপে শ্বেতাঙ্গ আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে।

ফারাজ তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, এমআই-ফাইভ ও জিসিএইচকিউ যখন এ বছরের গ্রীষ্মকালীন গোয়েন্দা ইন্টার্নশিপের জন্য নিয়োগ দিচ্ছে, তখন শ্বেতাঙ্গ প্রার্থীদের জন্য সুযোগ কেন থাকবে না। তিনি এই নিয়োগব্যবস্থাকে সরকারি খাতে ‘শ্বেতাঙ্গবিরোধী পক্ষপাতের সংস্কৃতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

রিফর্ম ইউকের নেতা আরও অভিযোগ করেন, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে এমন একটি সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেখানে মানুষের গায়ের রঙের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়। তার ভাষায়, এটি বর্ণবাদ এবং এটি ভুল।

ফারাজের এই বক্তব্য মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে বৈচিত্র্য, সমান সুযোগ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের নীতিকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। তার দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর জাতিগত বা বর্ণগত পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা ও মেধাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।

ফেসবুক পোস্টে ফারাজ বলেন, “একমাত্র রিফর্মই আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে গায়ের রঙের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না।

ফারাজের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাভিত্তিক নিয়োগের ধারণা। তার রাজনৈতিক অবস্থান হলো, সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মক্ষমতাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

তবে ফারাজের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে—এমআই-ফাইভ ও জিসিএইচকিউর ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে শ্বেতাঙ্গদের জন্য সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এই অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতার শর্ত, আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধি এবং জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না—এসব বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এমআই-ফাইভ হলো যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা, আর জিসিএইচকিউ মূলত বৈদ্যুতিক যোগাযোগ ও সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুই প্রতিষ্ঠানই ভবিষ্যৎ কর্মী তৈরির জন্য বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।

ফারাজের অভিযোগ তাই শুধু একটি নিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে নয়; এটি যুক্তরাজ্যের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগনীতির বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। একদিকে বৈচিত্র্যময় কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার পক্ষে যুক্তি রয়েছে, অন্যদিকে ফারাজের মতো রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ কখনোই কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যমূলক সুবিধা বা অসুবিধা তৈরি করা উচিত নয়।

ফারাজ তার বক্তব্যের মাধ্যমে এই বিতর্ককে সরাসরি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রিফর্ম ইউকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাভিত্তিক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে এবং গায়ের রঙের ভিত্তিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

তার বক্তব্যে আরও একটি রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—রিফর্ম ইউকে নিজেকে এমন একটি দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যারা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয়ভিত্তিক নীতির পরিবর্তে যোগ্যতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

সূত্রঃ নাইজেল ফারাজের ফেসবুক পোস্ট⁠

এম.কে

আরো পড়ুন

পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ঐতিহাসিক উত্থানঃ নির্বাচিত ৮০ কাউন্সিলর

নিউজ ডেস্ক

লন্ডনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গুলিবর্ষণে যুবক নিহত

বার্মিংহামে আসছে তুতানখামুনকে ঘিরে ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী