ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সামনে ব্রেক্সিটবিরোধী আন্দোলনকারী স্টিভ ব্রের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার আইন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি বলেছেন, ব্রের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে মানবাধিকার আইন অতিরিক্ত দূর পর্যন্ত চলে গেছে।
৫৭ বছর বয়সী স্টিভ ব্রে ‘মিস্টার স্টপ ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওয়েস্টমিনস্টারে ব্রেক্সিটবিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই আন্দোলনকারী দলীয় সম্মেলন এবং পার্লামেন্টের সামনে নিয়মিত প্রতিবাদ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে কয়েকজন আন্দোলনকারীর সঙ্গে উচ্চ শব্দে গান বাজাতে দেখা গেছে।
ব্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নিক টিমোথি বলেন, প্রতি বুধবার ব্রে নিজেকে অধিকারসম্পন্ন মনে করে এমন আচরণ করেন, যা আশপাশের কার্যালয়ে কাজ করা মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করে। তার দাবি, ব্রের কারণে হাজারো দর্শনার্থী ও পর্যটকের অভিজ্ঞতা ব্যাহত হচ্ছে।
টিমোথি আরও বলেন, পুলিশ ও আদালত তাকে থামাতে পারছে না। তার মতে, অন্য সবার স্বার্থের চেয়ে প্রতিবাদের অধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার আইনের সমস্যার উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্রের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।
ব্রেক্সিটপন্থী রাজনীতিকদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ব্রের প্রতিবাদ কর্মসূচির সমালোচনা করে আসছেন। রিফর্ম ইউকের এমপি লি অ্যান্ডারসন তাকে ‘পরজীবী’ ও ‘পরনির্ভরশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক কনজারভেটিভ এমপি স্টিভ বেকারও ব্রেকে অত্যন্ত বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। সাবেক এমপি মার্কো লংহিও তাকে কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ব্রের মেগাফোন ও শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। ২০২২ সালের জুন এবং ২০২৪ সালের মার্চে পুলিশ অন্তত দুইবার তার শব্দবর্ধক যন্ত্র জব্দ করে। নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে পুলিশ তাকে সতর্কও করেছিল। তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
এ বছরের শুরুর দিকে হাউস অব কমন্সেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অলিভার ডাউডেন ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রতিবাদের নামে ‘অযৌক্তিক চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা’ বন্ধের উপায় নিয়ে মন্ত্রীদের আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওয়েলসের পোর্ট ট্যালবটে বেড়ে ওঠা ব্রে একসময় ওয়েস্টমিনস্টারের প্রায় ৬০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দ্য নিউ স্টেটসম্যান-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখন দক্ষিণ ওয়েলসে ফিরে গেছেন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে লন্ডনে এলে রাতে থাকার ব্যবস্থা করেন।
নিক টিমোথির সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ব্রে জানান, আগামী ছয় সপ্তাহ তিনি পার্লামেন্টের সামনে নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। তিনি লেখেন, বিরতি নিয়ে ব্যক্তিগত জীবন সামলাতে চান। তবে সমর্থকদের উদ্দেশে ‘আবার ফিরে আসবেন’ বলেও জানান তিনি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

