TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের জনপ্রিয় সৈকতে গোসল করে অসুস্থ শত শত মানুষ

ব্রিটেনে চলতি গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের আগে দেশটির জনপ্রিয় ও অভিজাত কয়েকটি সৈকতে সাগরের পানিতে গোসল করে শত শত মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। পরিবেশ ও সামুদ্রিক দূষণবিরোধী সংগঠন ‘সার্ফার্স এগেইনস্ট স্যুয়ারেজ’ (এসএএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ৪০৬টি স্থানে অসুস্থতার ৭৬৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংগঠনটির দাবি, সমুদ্রের দূষিত পানি থেকে কানের সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব অসুস্থতার কারণে মানুষকে কর্মস্থল থেকে ছুটিও নিতে হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের দূষিত পানির সংস্পর্শে অসুস্থ হয়ে মোট ১৫ হাজারের বেশি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে বলে এসএএসের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের অসুস্থতার অভিযোগগুলোর প্রায় অর্ধেকই এসেছে ১ মে’র পর। এমন সময়েই যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী সপ্তাহে কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের বার্ষিক রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া সৈকতগুলোর মধ্যে কয়েকটি ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। সাধারণত এই স্বীকৃতি পাওয়া সৈকতগুলোকে উচ্চমানের পানির গুণগত মান, পরিচ্ছন্নতা, জীববৈচিত্র্য, নিরাপত্তা ও সহজপ্রাপ্যতার জন্য বিবেচনা করা হয়। ফলে এসব জনপ্রিয় সৈকতে অসুস্থতার ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এসএএসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অসুস্থতার অভিযোগ এসেছে বোর্নমাউথ সৈকত থেকে—১৬টি। ডেভনের ক্রয়ড বে থেকে ১৩টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পলজেথ থেকে ১২টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওয়েলসের পোর্টকলে অবস্থিত রেস্ট বে-তে ১২টি, ডেভনের এক্সমাউথে ১০টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পোর্টরিথে ৯টি অসুস্থতার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর ডেভনের সন্টন স্যান্ডস, ডরসেটের সোয়ানেজ সেন্ট্রাল এবং ওয়েলসের ব্যারির ওগমোর—প্রতিটি স্থান থেকে আটটি করে অভিযোগ এসেছে। উত্তর ডেভনের উলাকম্ব ভিলেজে পাওয়া গেছে সাতটি অভিযোগ।

তবে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সময় হারানোর ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কেন্টের সেন্ট মেরিজ বে। এসএএসের হিসাবে, ওই এলাকার পানির কারণে অসুস্থ হয়ে মানুষকে মোট ১ হাজার ১৪টি কর্মদিবস হারাতে হয়েছে।

সৈকতগুলোর পানিদূষণের পেছনে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এসএএস। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের সৈকতে অপরিশোধিত বা দূষিত পয়োবর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের দূষণ বহু বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর।

ইংল্যান্ডের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালেই মোট ২ হাজার ৪৮৭টি দূষণ ঘটনার রেকর্ড হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মানুষের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির পরিমাণ ৪৭ লাখ ঘণ্টায় পৌঁছেছে বলে এসএএসের পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে।

এসএএসের প্রচারাভিযানবিষয়ক প্রধান জো মরলি বলেন, পানিতে গোসল বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়ে হাজার হাজার মানুষ সংগঠনটির কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না।

তিনি বলেন, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও কানের সংক্রমণ থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ কর্মস্থল থেকে দূরে থাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি এখন একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।

তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, পানিতে গোসল বা বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত অসুস্থতার বিষয়ে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই এবং পানিতে নামা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষাও নেই।

এদিকে ব্রিটেনে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকত ও সমুদ্রসৈকতে মানুষের ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঠান্ডা হতে সমুদ্রের পানিতে নামেন। ফলে পানিদূষণ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুই দিক থেকেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এসএএসের তথ্য ও অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে দূষিত পানির সঙ্গে অসুস্থতার প্রতিটি ঘটনার সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নির্ধারণে আরও বৈজ্ঞানিক ও সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রজন্মের সবচেয়ে কঠোর প্রাণীকল্যাণ নীতি আনছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

যুক্তরাজ্যে টিকটক লাইভে অবৈধভাবে চ্যানেল পার হওয়ার ‘গাইড’ প্রদান নিয়ে কঠোর সমালোচনা

যুক্তরাজ্যের ইংলিশ চ্যানেলের নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘসূত্রতা