ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার এক দশক পূর্তির প্রাক্কালে প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, দ্বিতীয় কোনো ব্রেক্সিট গণভোট অনুষ্ঠিত হলে বেশিরভাগ ব্রিটিশ ভোটার ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে রায় দেবেন। ডেল্টাপল পরিচালিত এই জরিপটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য মিরর।
জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৫৮ শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ছয়জন ব্রেক্সিট বাতিল করে ব্লকে ফেরার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জরিপটি ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট ভোটের দশম বার্ষিকীর আগে জনমনে পরিবর্তিত মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইইউতে ফেরার পক্ষে সমর্থন সবচেয়ে বেশি।
১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, নতুন কোনো গণভোট হলে তারা ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে ভোট দেবেন। বিপরীতে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রশ্নে মতামত বিভক্ত। ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫১ শতাংশ ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে, যেখানে ৪৯ শতাংশ পুনঃযোগানের পক্ষে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্রেক্সিট সমর্থন আরও শক্তিশালী, যেখানে ৫৮ শতাংশ ব্লকের বাইরে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রক্ষণশীল ও সংস্কারবাদী যুক্তরাজ্য (Reform UK) সমর্থকদের মধ্যে ব্রেক্সিটের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। জরিপে ৬৬ শতাংশ রক্ষণশীল ভোটার এবং ৮২ শতাংশ সংস্কারপন্থী ভোটার ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইইউতে ফেরার পক্ষে প্রবল সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। লেবার সমর্থকদের ৭১ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৭৮ শতাংশ পুনঃযোগানের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিকভাবে স্কটল্যান্ডে ইইউতে ফেরার পক্ষে সমর্থন সবচেয়ে বেশি—৭৩ শতাংশ। লন্ডন ও ওয়েলস উভয় অঞ্চলেই ৬৫ শতাংশ ভোটার পুনঃযোগানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মিডল্যান্ডস ও উত্তর ইংল্যান্ডে এই হার তুলনামূলক কম হলেও সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ইইউতে ফেরার পক্ষে—মিডল্যান্ডসে ৫৩ শতাংশ এবং উত্তরে ৫৪ শতাংশ।
বছরের পর বছর ধরে চলা ব্রেক্সিট-পরবর্তী অচলাবস্থার পর প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি গত বছর ব্রাসেলসের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেন, যার ফলে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা আবারও ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
রোববার স্টারমার ইইউর সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, একক বাজার নিয়ে তিনি “আরও গভীরভাবে ভাবতে প্রস্তুত”। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য ইইউতে পুনরায় যোগ দেবে না এবং লেবার পার্টির ইশতেহারে কেবল ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দলের ভেতরে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বড়দিনের আগে প্রকাশ্যে ইইউর সঙ্গে একটি নতুন কাস্টমস ইউনিয়ন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে ব্রেক্সিট সম্পর্কিত বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

