এক ভারতীয় পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ছাত্র যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে থাকার উদ্দেশ্যে এক ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করার চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট ২০২৬) এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
আসামি ভিজয় মুনদ্রাথি (৪১) শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে এক কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। ওই কিশোরী আসলে পেডোফাইল হান্টার গোষ্ঠী ‘রাইড টু জেল’-এর ফাঁদ ছিল। আদালতে বলা হয়, মুনদ্রাথি বার্তায় যৌন স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করতেন এবং নিজের নগ্ন ভিডিও পাঠাতেন।
এপ্রিল মাসে ভিজয় মুনদ্রাথি ডনকাস্টারে গিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেন। যাত্রার আগে তিনি জানান যে তাকে একজন “ব্রিটিশ মেয়ে” বিয়ে করতে হবে এবং সে বড় হলে তাকে বাড়ি কিনে দেবেন। ট্রেনে শেফিল্ড থেকে ডনকাস্টারে পৌঁছানোর পর তাকে ‘রাইড টু জেল’ গোষ্ঠীর সদস্যরা আটক করে। তার কাছে প্রসেকো, আংটি এবং পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
প্রসিকিউটর ইউজিন ক্রস আদালতে জানান, মুনদ্রাথি দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনজনের সঙ্গেও যৌন চ্যাট করেছিলেন, যাদের তিনি ১৪ বছর বয়সী বলে বিশ্বাস করতেন।
আইনজীবী ক্রিস অ্যাসপিনাল বলেন, অপরাধের আগে মুনদ্রাথি ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যামে তার সব সঞ্চয় হারিয়েছিলেন এবং ভিসা নবায়নে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “স্ট্যাটাস নিশ্চিত করতে তরুণীকে বিয়ে করার চিন্তা তার ছিল, তবে যে বয়সের মেয়েদের লক্ষ্য করেছিলেন সেটা সম্পূর্ণ ভুল ও অবিবেচনাপ্রসূত।”
বিচারক র্যাচেল হ্যারিসন মুনদ্রাথিকে তিন বছর দশ মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে আজীবন যৌন অপরাধী তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়, ১০ বছরের যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ (Sexual Harm Prevention Order) জারি করা হয়, ২২৮ পাউন্ড ভিকটিম সারচার্জ ধার্য করা হয় এবং ব্যানিং অর্ডারও দেওয়া হয়।
মুনদ্রাথি আগেই চারটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন—শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগের চেষ্টা এবং শিশুর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপের ব্যবস্থা করার চেষ্টা সহ।
এই মামলা যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘন এবং শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

