13.3 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভাষণ সম্পাদনা বিতর্কে ট্রাম্প শিবিরের ক্ষোভঃ “বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করছে”

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বিবিসিকে “১০০ শতাংশ ভুয়া সংবাদমাধ্যম” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এই অভিযোগ করেন বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এক ভাষণ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার পরিপ্রেক্ষিতে।

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গার আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তৃতা নিয়ে। প্যানোরামা-এর গত বছরের অক্টোবরের একটি পর্বে সেই ভাষণের দুটি আলাদা অংশ একত্র করে এমনভাবে প্রচার করা হয়, যাতে মনে হয় ট্রাম্প সমর্থকদে সংঘাত করতে বলেছেন।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তিনি তাদের সঙ্গে গিয়ে “peacefully and patriotically make your voices heard” — অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ ও দেশপ্রেমিকভাবে নিজেদের কণ্ঠ শোনানোর আহ্বান জানান। “fight like hell” বাক্যাংশটি তিনি পরে ব্যবহার করেন, যখন তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা দাবি তুলছিলেন।
এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ ১৯ পৃষ্ঠার একটি ডকুমেন্ট ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর হাতে আসে, যা বিবিসি বোর্ডে পাঠান মাইকেল প্রেসকট—যিনি বিবিসির সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড কমিটির সাবেক বাহ্যিক উপদেষ্টা।
ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও এই বিতর্কে বিবিসিকে “full of shit” বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম “ইচ্ছাকৃতভাবে সত্য বিকৃত করে ট্রাম্পবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।”
ডেইলি টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র লেভিট বলেন, “বিবিসির এই বাছাই করে সম্পাদিত ভিডিও তাদের পক্ষপাতদুষ্ট, অসৎ ও প্রচারণামূলক মনোভাবের প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে তারা ১০০ শতাংশ ভুয়া সংবাদমাধ্যম, যাদের আর ব্রিটিশদের স্ক্রিনে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা নেই।
প্রতিবার যখন আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাই এবং হোটেলে বিবিসি দেখতে হয়, তখন দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়—কারণ সেখানে কেবল মিথ্যা, বিকৃতি ও প্রচারণা ছাড়া কিছুই শোনা যায় না।”
অন্যদিকে, বিবিসির এক মুখপাত্র টেলিগ্রাফ-কে বলেন, “আমরা ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে মন্তব্য করি না। তবে বিবিসি যখন কোনো প্রতিক্রিয়া পায়, তখন সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। মাইকেল প্রেসকট আমাদের বোর্ড কমিটির সাবেক উপদেষ্টা, যেখানে সংবাদ কভারেজ নিয়ে বিভিন্ন মত ও বিতর্ক নিয়মিতভাবে আলোচিত হয়।”
ক্যারোলিন লেভিট অতীতেও বিবিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। গাজা যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশনে তিনি বিবিসিকে “ভুল তথ্য ছড়ানো” ও “ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাত দেখানোর” অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
তবে বিবিসি নিউজের বিশ্লেষক সম্পাদক রস অ্যাটকিন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে লেভিটের বক্তব্যকে “বারবার মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “লেভিটের অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর, বিকৃত ও অসত্য তথ্যের মিশ্রণ।”
এদিকে, ট্রাম্পের ভাষণ বিকৃতি নিয়ে বিতর্ক যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প শিবির যেখানে এটিকে “ইচ্ছাকৃত প্রচারণা” বলছে, সেখানে বিবিসি বলছে—“বস্তুনিষ্ঠতা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময়ই গণমাধ্যমের দায়িত্বের অংশ।”
সূত্রঃ হাফপোস্ট
এম.কে

আরো পড়ুন

ইইউ ও ব্রিটেনের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলো ইরান

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের হুমকি চীন-ইউরোপকে আরও কাছাকাছি আনছে!

অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে গ্রিস