যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু আইনজীবী ও পরামর্শদাতা অবৈধ অভিবাসীদের ভুয়া তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করতে সহায়তা করছে এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা নাইজেল ফারাজ সামাজিক মাধ্যমে এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, অভিবাসন আইনজীবীদের অর্থ উপার্জনের এই পদ্ধতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
তিনি বলেন, এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে কীভাবে কিছু আইনজীবী অবৈধ অভিবাসীদের প্রতারণামূলকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এ ঘটনাকে তিনি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে আখ্যা দেন।
তার নেতৃত্বাধীন দল এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভুয়া আশ্রয় আবেদন করতে সহায়তা করাকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। এই ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্য প্রমাণ করার প্রয়োজন হবে না এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
এছাড়া যারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে অথবা বৈধ অনুমতির মেয়াদ অতিক্রম করেছে, তাদের আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি আইনি সহায়তা বাতিল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে দেশের সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সকল অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। একদিকে সরকার আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে তদন্ত জোরদার করছে, অন্যদিকে বিরোধী দল কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
এদিকে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ভুয়া আবেদন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন হলেও প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

