ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নেক্সটের প্রধান নির্বাহী লর্ড উলফসন বলেছেন, ক্ষমতাসীন লেবার সরকার সম্ভবত ইতোমধ্যেই পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হেরে বসে আছে।
তার মতে, ভোটারদের মধ্যে সরকারের প্রতি যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা থেকে ফিরে আসা এখন অত্যন্ত কঠিন।
সোমবার সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজের এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে এমনটাই মনে হচ্ছে—যদিও আমি ভুলও হতে পারি—এই সরকার সম্ভবত পরবর্তী নির্বাচন ইতোমধ্যেই হেরে গিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের জন্য এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। এমন সময়ে এই বক্তব্য এসেছে, যখন লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টারমার তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনই এ সংঘাত থেকে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা খেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের কর বৃদ্ধি, নীতিগত ইউ-টার্ন এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা।
আগামী মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার যদি ব্যাপক আসন হারায়, তবে দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টাও শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কিছু লেবার এমপি ইতোমধ্যেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বলে জানা গেছে।
ইউগভের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, লেবারের জনসমর্থন বর্তমানে মাত্র ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। দলটি কনজারভেটিভ, গ্রিন পার্টি এবং রিফর্ম পার্টি থেকেও পিছিয়ে রয়েছে।
লর্ড উলফসন তার বক্তব্যে সরকারের এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্টেরও তীব্র সমালোচনা করেন। এই আইনের মাধ্যমে প্রথম দিন থেকেই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জিরো-আওয়ার চুক্তি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই আইনের “সবচেয়ে ক্ষতিকর অংশগুলো” বাতিল করা না হলে চাকরির সংখ্যা কমে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা নতুন নিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে।
তার ভাষায়, “প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের পা এখনো ব্রেকের ওপর রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনের পরিকল্পনা ব্যবস্থা বা প্ল্যানিং সিস্টেম অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করে নতুন কাঠামো তৈরি করা উচিত।
স্টারমারের “বুলডোজার চালিয়ে” পরিকল্পনা সংস্কারের প্রতিশ্রুতিকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পরিকল্পিত অর্থনীতি কখনো কাজ করে না। অনেক সময় পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়তে হয়।”
তিনি প্রস্তাব দেন, সরকার সরাসরি উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ না করে বরং স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করবে এবং বাজারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে।
এছাড়া তিনি নর্থ সি-তে পুনরায় তেল ও গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোরও আহ্বান জানান। তার মতে, ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভর জ্বালানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
লর্ড উলফসন বলেন, “যদি যুক্তরাজ্যকে আবার প্রবৃদ্ধির পথে ফেরাতে হয়, তবে সেই কাজ শুরু করতে হবে বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে। সরকারে থেকে প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা তৈরি করা যেন উড়ন্ত বিমানে বসে সেটি মেরামত করার মতো।”
তার এই মন্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং লেবার সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

