ব্রিটেনের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে যুক্ত দুই অ্যাক্টিভিস্ট হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ টানা দুই মাসের বেশি সময় অনশন চালিয়ে যাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। চিকিৎসকদের সতর্কতার পরও তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।
হেবা মুরাইসির বন্ধু আমরিন আফজাল বলেন, “মুরাইসি খুব ফ্যাকাশে, দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে পড়েছেন। তার পেশিতে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা এবং স্মৃতিভ্রংশ দেখা দিচ্ছে। একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়া হলেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি।”
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ব্রিস্টলে চুরি এবং অক্সফোর্ডশায়ারে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের রিমান্ডে নিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।
এই দুজনের সঙ্গে আরও ছয় অ্যাক্টিভিস্টকেও আটক করা হয়েছিল। তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে বিচার-পূর্ব আটকের (রিমান্ড) সীমা ছয় মাস। কিন্তু তাদের বিচার শুরু হওয়ার আগেই এক বছর কারাগারে কাটাবেন।
মুরাইসি টানা ৬৭ দিন এবং কামরান আহমেদ ৬০ দিন ধরে অনশন করছেন। এ ছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বন্দি লিউই কিয়ারামেলো মাঝেমধ্যে খাবার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। আহমেদ বুকে ব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদস্পন্দনের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগচছেন।
অন্যদিকে লিউই কিয়ারামেলোর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং যে কোনো সময় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কামরান আহমেদের বোন শাহমিনা আলম বলেন, “প্রতিবারই আমরা তাদের দেখতে যাচ্ছি, এটাই শেষ দেখা হতে পারে, এটা মাথায় নিয়েই। ওরা জানেও যে, ওরা যেকোন সময় মারা যেতে পারে, ওরা তবুও অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল।”
অনশনকারীরা জামিন, ন্যায্য বিচার এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনা বন্ধের আহ্বান এবং কারাগারে সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলেছেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বন্দিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও অনশনকারীদের হাতকড়া পরানো হয়েছে। শতাধিক চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।
সমর্থকরা এই অনশনকে ১৯৮১ সালের আইরিশ রিপাবলিকান অনশন আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে নেতা ববি স্যান্ডস অনশনের ৬৬তম দিনে মারা যান, যে দিনটি মুরাইসির অনশনের ৬৬তম দিনের সঙ্গে মিলে যায়।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার অনশনকারীদের জীবন নিয়ে চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা দেখাচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

