ব্রিটেনের বিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, শিশুদের যৌন নির্যাতনকারী চক্রের সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দলটির দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। গোপনে ধারণ করা আইটিভির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাদের এমন বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পশ্চিম লন্ডনের হাউনসলো এলাকার রিফর্ম ইউকের কাউন্সিলর অ্যাডাম পার্কিনস গোপন অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া আইটিভির এক প্রতিবেদককে বলেন বলে অভিযোগ, ধর্ষক চক্রের সদস্যদের রবিবার সকালে রোজ গার্ডেনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে তিনি খুশিমনেই রাজি হবেন।
প্রতিবেদনে তার আরও বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, একটি পিস্তল দেওয়া হলে তিনি ওই ব্যক্তিদের পেছনে গিয়ে গুলি চালাতেন এবং এরপর নির্বিকারভাবে কফি খেতে যেতেন।
একই এলাকার আরেক কাউন্সিলর ডেভিড কেরও পার্কিনসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কের বলেন বলে অভিযোগ, কয়েক হাজার শিশু নির্যাতনকারীকে সারিবদ্ধ করে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করতে পারলে অপরাধের হার কমাতে পারতেন তিনি।
প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, আইটিভির গোপন অনুসন্ধানের পর দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে রিফর্ম ইউকের এক মুখপাত্র জিবি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
দলের মুখপাত্র বলেন, যেসব সদস্য, কর্মী ও কাউন্সিলর স্পষ্টভাবে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলর পার্কিনস ও কের শিশু ধর্ষণকারী চক্রের সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করছিলেন। তারা কথোপকথনটিকে ব্যক্তিগত বলে মনে করেছিলেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। এর কয়েক দিন আগে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বর্ণবাদের কোনো জায়গা রিফর্ম ইউকেতে নেই। আইটিভির আরেকটি গোপন অনুসন্ধানে দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী ও চরম সহিংসতার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেদনে দলটির কর্মী জেসন পাওয়েলের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মুসলিম ও ব্রিটিশ পরিচয়কে পরস্পরবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দুটি বিষয় তেল ও পানির মতো। এ ছাড়া ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক করে বন্দিশিবিরে রাখার পক্ষেও বক্তব্য দেন তিনি। এসব বক্তব্যের পর পাওয়েলকে দলীয় সদস্যপদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।
রিফর্ম ইউকের জ্যেষ্ঠ সদস্য গাওয়াইন টাউলারও আইটিভির অনুসন্ধানে আলোচনায় এসেছেন। স্কুলজীবনে প্রতিদিন বর্ণবাদী আচরণ করতেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাইজেল ফারাজের স্কুলজীবনে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানানো হয়েছে।
ফারাজের সঙ্গে ডুলউইচ কলেজে পড়েছেন—এমন এক ডজনেরও বেশি সাবেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। ফারাজ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। পরে বিবিসিকে তিনি বলেন, তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা দুঃখজনক, তবে কাউকে আঘাত করার ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না।
জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইটিভির এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের পর ওই সপ্তাহে রিফর্ম ইউকের তিন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন এবং আরও দুজন দল ছেড়েছেন। ৯০ মিনিটের অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র আন্ডারকভার: আ ইয়ার ইন রিফর্ম ১৮ অক্টোবর রাত ১০টা ২০ মিনিটে প্রচারের কথা রয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

