TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ম্যাকাবি তেলআবিব ইস্যুতে চাপে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ

ম্যাকাবি তেল আবিব ফুটবল ক্লাবের সমর্থকদের বার্মিংহামে একটি ম্যাচে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা আসছে। পুলিশের কাজ তদারককারী সংস্থা হিজ ম্যাজেস্টিস ইনস্পেক্টরেট অব কনস্ট্যাবুলারি (HMIC)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হবে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ভুল করেছে পুলিশ।

 

এই তদন্তের নির্দেশ দেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তদন্ত প্রতিবেদনটি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের ওপর চাপ আরও বাড়াবে এবং বাহিনীর প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডের অবস্থান দুর্বল করবে। যদিও তিনি সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের সামনে দাবি করেছিলেন, তার বাহিনী সবকিছু সঠিক নিয়মেই করেছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের বক্তব্য ছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের উপস্থিতিতে তারা আপত্তি করেনি। তবে সিদ্ধান্ত বদলায় তখনই, যখন ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আমস্টারডামে ম্যাকাবির ম্যাচ ঘিরে ডাচ পুলিশের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তারা তথ্য পায়।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ডাচ পুলিশ তাদের জানিয়েছিল যে ওই সহিংসতায় ম্যাকাবি সমর্থকেরাই ছিল মূল অপরাধী। কিন্তু এই দাবি ডাচ পুলিশ এবং অন্যান্য পক্ষ সরাসরি অস্বীকার করেছে। HMIC-এর তদন্তে উঠে এসেছে, ডাচ পুলিশের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপস্থাপিত তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ম্যাচের আগে স্থানীয় সেফটি অ্যাডভাইসরি গ্রুপকে একটি প্রতিবেদন দেয়, যার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিবেদনে ম্যাকাবি সমর্থকদের আচরণ ও দায় বাস্তব তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তদন্তের সময় HMIC ডাচ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। ডাচ পুলিশ জানায়, সহিংসতার সময় ‘ম্যাকাবি সমর্থকেরা মানুষকে নদীতে ফেলে দিয়েছিল’—এমন দাবি সঠিক নয়। বাস্তবে একজন মাত্র সমর্থক পানিতে পড়ে যান, যা ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বুধবার হাউস অব কমন্সে এই তদন্তের সমালোচনামূলক ফলাফল সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করবেন। তিনি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কনস্টেবলের ওপর তার আস্থা রয়েছে কি না। তবে তাকে বরখাস্ত করার কোনো সরাসরি ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নেই।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফস্টারই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি চাইলে প্রধান কনস্টেবলকে অপসারণ করতে পারেন। এর আগে তিনি গিল্ডফোর্ডের নেতৃত্বে বাহিনীর কর্মদক্ষতা ও জনসেবার মান উন্নয়নের প্রশংসা করেছিলেন।

হোম অফিস জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী HMIC-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। এদিকে আমস্টারডাম পুলিশও নিশ্চিত করেছে, তারা তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে এবং আশা করছে সেগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে নামাজের সময় আগুন ধরানোর পরিকল্পনাঃ মুসলিম সম্প্রদায় আতঙ্কিত

রাজ্যাভিষেকে এই প্রথম ধর্মের বৃত্ত ভাঙ্গলো রাজপরিবার

ইমেনসা ল্যাবের ত্রুটির কারণে কোভিডে সম্ভাব্য ২৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক