TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে বড় অভিযানঃ নামছে নতুন প্রযুক্তি

যুক্তরাজ্যজুড়ে অবৈধ নম্বর প্লেট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করছে সরকার। জরিমানা এড়ানো চালকদের পাশাপাশি অবৈধ পণ্য পরিবহন ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করতে নতুন সড়ক পুলিশিং ব্যবস্থায় সরকারি অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন ন্যাশনাল রোডস পুলিশিং কো-অর্ডিনেশন সেন্টার—এনআরপিসিসি। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো হবে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে।

সরকার জানিয়েছে, অভিযানে নতুন প্রযুক্তিও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের গগলস রয়েছে, যা এমন নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম হবে যেগুলো ক্যামেরার কাছে অপাঠ্য বা অদৃশ্য করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশের নজরে থাকা অবৈধ নম্বর প্লেটের অন্যতম ধরন হলো ‘ক্লোনড প্লেট’। এতে একটি গাড়িতে অন্য বৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের নকল ব্যবহার করা হয়। ফলে গাড়িটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক ধরনের হলো ‘ঘোস্ট প্লেট’। স্বচ্ছ বিশেষ ফিল্ম বা অন্য কৌশল ব্যবহার করে এসব নম্বর প্লেটকে ক্যামেরার কাছে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলা হয়। কোনো গাড়িতে নম্বর প্লেট না থাকাও অবৈধ ব্যবহারের আওতায় পড়ে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ নম্বর প্লেট শুধু দ্রুতগতির জরিমানা, পার্কিং ফি বা ক্লিন এয়ার জোনের জরিমানা এড়াতে ব্যবহৃত হয় না; এগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধে এ ধরনের নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়।

নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম গাড়ি চুরি যাওয়ার পর কিংবা গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন প্রযুক্তি ও সমন্বিত পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রোডস মিনিস্টার জাস্টিন ম্যাডার্স বলেছেন, অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে পুলিশি সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নম্বর প্লেট পার্কিং ফি এড়িয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচারের মতো অপরাধেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

সরকারের নতুন রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজি-রও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক দশকেরও বেশি সময় পর নেওয়া এই কৌশলের লক্ষ্য সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং হাজারো মানুষের জীবন রক্ষা করা। এর আওতায় অবৈধ নম্বর প্লেট ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি, নম্বর প্লেটের মানদণ্ড পর্যালোচনা এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের বিষয়েও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

এনআরপিসিসির উপ-জাতীয় সমন্বয়কারী চিফ সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক ক্লোথিয়ার বলেন, সড়ক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি সড়ক ও সড়কের বাইরের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করাই নতুন কেন্দ্রটির অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে পুলিশের ক্রাইম মিনিস্টার সারাহ জোন্স বলেন, অবৈধ নম্বর প্লেট কোনো ‘ভুক্তভোগীহীন অপরাধ’ নয়। অপরাধীরা এগুলো ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে, অবৈধ পণ্য পরিবহন করতে এবং নিজেদের শনাক্ত হওয়া ঠেকাতে।

নতুন উদ্যোগের আওতায় ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি—ডিভিএসএ এবং ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। অবৈধ নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ, সড়কে অভিযান এবং অবৈধভাবে নম্বর প্লেট সরবরাহকারী ব্যবসার বিরুদ্ধে তদন্তেও সহযোগিতা করা হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভুলভাবে প্রদর্শিত নম্বর প্লেট ব্যবহার করলে চালককে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। নতুন প্রযুক্তি ও সমন্বিত পুলিশি ব্যবস্থার ফলে এ ধরনের আইনভঙ্গ শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শুধু অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় নয়; বরং নম্বর প্লেটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করা, অবৈধ পণ্য পরিবহন ঠেকানো এবং যুক্তরাজ্যের সড়ককে আরও নিরাপদ করা।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

মেটার নীতিমালায় পরিবর্তন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিকঃ রিপোর্ট

ব্রিটেনে স্কুলপথে নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ, ২৫০ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু

ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব যুক্তরাজ্যের, কিন্তু কেন?