TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন দমনে কড়াকড়িঃ আশ্রয়প্রার্থীদের মোবাইল জব্দের পরিকল্পনায় সমালোচনার ঝড়

আশ্রয়প্রার্থীদের ফোন জব্দ ও মুখে তল্লাশির সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার উদ্বেগ
চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী আশ্রয়প্রার্থীদের মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দের নতুন পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার থেকে কেন্টের ম্যানস্টন প্রসেসিং সেন্টারে পাঠানো ব্যক্তিদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হবে এবং প্রয়োজনে ডিভাইস থেকে ডেটা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

 

নতুন ব্যবস্থার আওতায় কর্মকর্তারা আশ্রয়প্রার্থীদের বাইরের পোশাক—যেমন কোট, জ্যাকেট বা গ্লাভস—খুলে তল্লাশি করতে পারবেন। এমনকি গোপনে লুকানো সিম কার্ড বা ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস খোঁজার জন্য আটক ব্যক্তিদের মুখের ভেতর তল্লাশির ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে কি না—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি সরকার।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভয়াবহ চ্যানেল যাত্রা শেষে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক তল্লাশি অমানবিক। ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের সহযোগী পরিচালক নাতাশা স্যাঙ্গারাইডস বলেন, নির্বিচারে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে প্রমাণ ছাড়াই সব শরণার্থীকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়, যা গোপনীয়তার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আইনি মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করা একাধিক সলিসিটরের মতে, মোবাইল ফোন জব্দ সংক্রান্ত ২০২২ সালের হাইকোর্টের রায়ে যে স্বাধীন তদারকি ও অনুমোদনের কথা বলা হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় তার প্রতিফলন স্পষ্ট নয়। আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, ম্যানস্টনে নির্বিচারে তল্লাশি চালানো হলে আদালত আগে যে ব্যর্থতাগুলো চিহ্নিত করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য মানবপাচার চক্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা। বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন আইন পাস হওয়ার পর এই ক্ষমতা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, নতুন কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসনের ‘সরবরাহ শৃঙ্খল’ বন্ধ করতে সহায়ক হবে।

এই নীতির পেছনে রাজনৈতিক চাপও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অননুমোদিত অভিবাসন ইস্যুতে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলের উত্থান লেবার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে রিফর্ম ইউকে লেবারের চেয়ে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেল বন্ধ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হোটেল বন্ধের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্রয়প্রার্থীদের একটি সামরিক স্থাপনায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসী—যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অভিবাসনের এই উচ্চ সংখ্যার প্রেক্ষাপটে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও মানবাধিকার উদ্বেগের সংঘাত আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

বরিস জনসনের ভারত সফর সীমিত করা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ বন্ধ হচ্ছে বিদেশি কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগ

যুক্তরাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভরতা বাড়ছে