13.4 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন শাবানা মাহমুদ, লেবার এমপিদের সমালোচনা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করায় দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় শরণার্থীদের স্থায়ী মর্যাদা বাতিলসহ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সরকারি সহায়তা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে। এই ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্যই প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে স্থায়ী শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া যেসব আশ্রয়প্রার্থীকে আর সরকারি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে মনে করা হবে বা যারা আইন ভঙ্গ করবে, তাদের জন্য দেওয়া সরকারি সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

সরকার একই সঙ্গে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয় আবেদনকারী ১৫০টি পরিবারকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগ করার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জোরপূর্বক বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে।

লন্ডনে দেওয়া এক বক্তৃতায় শাবানা মাহমুদ বলেন, ব্রিটিশ জনগণের উদারতা তখনই কার্যকর হবে যখন আশ্রয়প্রার্থীরা দেশের আইন মেনে চলবে এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, করদাতাদের অর্থে দেওয়া আবাসন কেবল তাদের জন্য থাকবে যারা কাজ করার অধিকার নেই এবং অন্যথায় চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। তার মতে, অধিকার পাওয়ার সঙ্গে দায়িত্বও থাকতে হবে।

মাহমুদ দাবি করেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান না করা হলে কঠোর নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য। ফোকস্টোন অ্যান্ড হাইথের এমপি টনি ভন জানান, প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি স্বাক্ষর করা একটি চিঠির মাধ্যমে তারা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এসব প্রস্তাব সরকারের সামাজিক সংহতি ও একীভূত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করবে।

ওয়ালথামস্টোর এমপি স্টেলা ক্রেসি বলেন, যেসব মানুষ মানব পাচার বা যুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছে তাদের বারবার ঝুঁকির মধ্যে আছে কি না তা যাচাই করা অন্যায্য। তার মতে, এতে ইউক্রেন, ইরান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অনেক শরণার্থী দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

এদিকে লেবার এমপি সারা ওয়েন অভিযোগ করেন, শিশুদের বহিষ্কার বা আটক করার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই-এর বিতর্কিত নীতির মতো, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সময় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।

এই পরিকল্পনার কিছু অংশ সংসদের ভোট ছাড়াই কার্যকর করা সম্ভব হলেও অন্য কিছু পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তিনটি সেকেন্ডারি আইন উত্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বলে বিবেচিত আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সহায়তা বন্ধ করা যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছর আরও একটি নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, যা বর্তমানে পাঁচ বছর।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের নীতিবিষয়ক পরিচালক মুবিন ভুট্টু বলেন, মানুষের জীবন কঠিন করে দিলে তারা যুক্তরাজ্যে আসা বন্ধ করবে—এমন প্রমাণ নেই, বিশেষ করে যখন তারা যুদ্ধ বা নির্যাতনের কারণে নিজ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে রিফিউজি কাউন্সিলের যোগাযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ইমরান হুসেইন বলেন, পরিবারগুলোকে মাত্র সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে বলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তার মতে, এতে অনেক শিশুকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে ধারাবাহিক ধর্মঘট ঘোষণাঃ বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা

লন্ডনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার চেয়েও শক্তিশালী নতুন ভাইরাস

অনলাইন ডেস্ক

৫০ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরও বহিষ্কারের মুখে ৬৮ বছর বয়সী মারিয়া