TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এপ্রিল থেকে জ্বালানি বিল ৭% কমছেঃ মূল্যসীমা হ্রাসে বছরে গড়ে ১১৭ পাউন্ড সাশ্রয়

এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যে গড়পড়তা পারিবারিক জ্বালানি বিল ৭ শতাংশ কমছে। জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত চার্জ কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের অধিকাংশ পরিবারই এই হ্রাসের সুবিধা পাবে, যদিও পরিবারভেদে সাশ্রয়ের পরিমাণ ভিন্ন হবে।

মূল্যসীমা বা প্রাইস ক্যাপের আওতায় থাকা ভ্যারিয়েবল ট্যারিফ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে, গড় জ্বালানি ব্যবহারকারী একটি পরিবারের মাসিক বিল প্রায় ১০ পাউন্ড কমবে। বছরে মোট সাশ্রয় হবে গড়ে ১১৭ পাউন্ড, ফলে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিল নেমে আসবে ১,৬৪১ পাউন্ডে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান মূল্য এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।

নভেম্বরের বাজেটে চ্যান্সেলর রেচেল রিভস জ্বালানি নীতিসংক্রান্ত ব্যয় পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেন। কনজারভেটিভ সরকারের চালু করা এনার্জি কোম্পানি অবলিগেশন (ইকো) স্কিম বাতিল করে এবং কিছু খরচ সাধারণ করের আওতায় এনে বছরে ১৫০ পাউন্ড সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ লাইন, কেবল ও গ্যাস পাইপসহ জ্বালানি নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত সাশ্রয় কিছুটা কমে গেছে।

সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে এপ্রিল থেকে মূল্যসীমা বরং বাড়ত বলে জানিয়েছে অফজেম। মূল্যসীমা নির্ধারণে ধরা হয় বছরে ১১,৫০০ কিলোওয়াট ঘণ্টা গ্যাস ও ২,৭০০ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একটি “গড় পরিবার”কে, যারা ডাইরেক্ট ডেবিটের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, জ্বালানি বিল দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সরকার তা কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে কনজারভেটিভ দলের ছায়া জ্বালানি মন্ত্রী ক্লেয়ার কোটিনহো অভিযোগ করেন, বিল থেকে কিছু খরচ সরিয়ে তা করের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বিল হ্রাসের সুফল সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। ইউনিট রেট কমার ফলে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—যেমন চিকিৎসা সরঞ্জামনির্ভর পরিবার—তারা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। বিপরীতে, যারা কম বিদ্যুৎ ও বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের সাশ্রয় কম হতে পারে। ফিক্সড ট্যারিফে থাকা প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারও এই পরিবর্তনের আওতায় আসবে এবং সরবরাহকারীরা তাদের নতুন হার জানাবে। প্রয়োজনে সাশ্রয় না দিলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে অফজেমের।

এপ্রিল থেকে গ্যাসের ইউনিট মূল্য নির্ধারিত হবে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫.৭৪ পেন্স এবং বিদ্যুৎ ২৪.৬৭ পেন্স। বিদ্যুতের ইউনিট রেট প্রায় ১১ শতাংশ এবং গ্যাসের ইউনিট রেট ৩ শতাংশ কমছে। প্রিপেমেন্ট মিটারে থাকা পরিবারের গড় বার্ষিক বিল হবে ১,৫৯৭ পাউন্ড, আর তিন মাস পরপর নগদ বা চেকে বিল পরিশোধকারীদের ক্ষেত্রে তা হবে ১,৭৭২ পাউন্ড। বিদ্যুতের দৈনিক স্ট্যান্ডিং চার্জ বেড়ে ৫৭.২১ পেন্স এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে কমে ২৯.০৯ পেন্স হবে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর গ্যাসের পাইকারি বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্ণওয়াল ইনসাইট পূর্বাভাস দিয়েছে, জুলাইয়ের পর বড় ধরনের আর মূল্যহ্রাস নাও হতে পারে।

যদিও এপ্রিল থেকে জ্বালানি বিল কমছে, পানি বিল, কাউন্সিল ট্যাক্স ও অন্যান্য গৃহস্থালি ব্যয় বাড়বে। ইতোমধ্যে পরিবারগুলো সরবরাহকারীদের কাছে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বকেয়া ঋণে জর্জরিত। শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এনার্জি ইউকে বলেছে, আর্থিক চাপে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তায় বিভিন্ন ট্যারিফ ও সাপোর্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তবে গ্রাহকদের নিজেদের পরিস্থিতি সরবরাহকারীদের জানাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক স্বস্তি মিললেও বাজার এখনো অস্থির; তাই গ্রাহকদের জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলক অফার যাচাই করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

মা হারালেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক

অনিয়মিত অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে বতসোয়ানায়কেও প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাজ্য

পঞ্চাশোর্ধ্বদের ভ্যাকসিনের ৩য় ডোজ দেবে ব্রিটেন