TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পারিবারিক পুনর্মিলন স্থগিতঃ হাইকোর্টে সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের সন্তান ও জীবনসঙ্গীকে দেশে আনার পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হাই কোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শরণার্থী ও অভিভাবকহীন শিশুদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা সেইফ প্যাসেজ ইন্টারন্যাশনাল সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার অনুমতি পেয়েছে।

 

মি. জাস্টিস ফোর্ডহ্যাম প্রাথমিক শুনানিতে মত দেন, সিদ্ধান্তটি আদালতে পর্যালোচনার উপযুক্ত। আদালতে উপস্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়, এই স্থগিতাদেশ শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী শরণার্থীদের ওপর প্রভাব বিবেচনায় না নেওয়ায় সমতা আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

হোম অফিস অবশ্য সংস্থাটির সব অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেছে—এ দাবি নাকচ করেছে। এক মুখপাত্র জানান, পূর্ণাঙ্গ শুনানিতেই অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিচার হবে। মামলার মূল শুনানি চলতি বছরের শেষ দিকে হওয়ার কথা।

গত সেপ্টেম্বরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইভেট কুপার শরণার্থী পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন। এই পথের মাধ্যমে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া প্রাপ্তবয়স্করা তাদের স্বামী/স্ত্রী বা সঙ্গী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদের যুক্তরাজ্যে আনতে পারতেন। স্থগিতাদেশ ঘোষণার সময় জানানো হয়, এটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং পরে নতুন শর্ত আরোপ করা হতে পারে।

এ সিদ্ধান্তে লেবার পার্টির ভেতর থেকেও সমালোচনা আসে। বিশেষ করে কিন্ডারট্রান্সপোর্টের সঙ্গে যুক্ত পিয়ার আলফ দাব’স বিদেশে আটকে থাকা শরণার্থী শিশুদের দুর্দশা যথাযথভাবে বিবেচনা না করার অভিযোগ তোলেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৭৬টি শরণার্থী পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি শিশুদের জন্য এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী আবেদনকারীদের জন্য দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পথের আওতায় কোনো আবেদন ফি ছিল না এবং শর্তও তুলনামূলক শিথিল ছিল।

বর্তমানে বিকল্প পারিবারিক ভিসা ব্যবস্থায় আবেদন করতে একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য খরচ ৫ হাজার ৪৩ পাউন্ড এবং শিশুর জন্য ৪ হাজার ২৬৬ পাউন্ড। স্পন্সরকে বছরে কমপক্ষে ২৯ হাজার পাউন্ড আয় দেখাতে হয় অথবা সমপরিমাণ সঞ্চয় থাকতে হয়। কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার অনুমতি না থাকায় শরণার্থীদের পক্ষে এই আর্থিক শর্ত পূরণ প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করছে সেইফ প্যাসেজ ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জো কোবলি বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্নতার মানসিক প্রভাব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতার পর অনেক পরিবার হতাশা ও উদ্বেগে ভুগছে। তার মতে, নিরাপদ পথ বন্ধ হলে আরও মানুষ দালালচক্রের ঝুঁকিপূর্ণ রুট বেছে নিতে বাধ্য হতে পারে।

বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আশ্রয়ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সংসদে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে ও অন্যায্য” এবং সংকট সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সময়ে নাইজাল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দলের উত্থান রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে শরণার্থী মর্যাদা অস্থায়ী করা, নিশ্চিত আবাসন সহায়তা বন্ধ করা এবং সীমিত সংখ্যক “নিরাপদ ও বৈধ” প্রবেশপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পারিবারিক পুনর্মিলন স্থগিতের বৈধতা নিয়ে হাই কোর্টের রায়ই এখন নির্ধারণ করবে সরকারের এই পদক্ষেপ টিকে থাকবে কি না।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অবৈধভাবে থাকা যাবে নাঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্যে জনগণের সঞ্চয়ের উপরেও নির্ধারণ হতে পারে ট্যাক্সঃ গবেষণা

আগস্টে যুক্তরাজ্যের হাই স্ট্রিটে বন্ধ হচ্ছে সুপারড্রাগ, পাউন্ডল্যান্ডসহ একাধিক জনপ্রিয় স্টোর