TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বছরে ৫.৫ মিলিয়ন দোকানচুরিঃ খুচরা খাতে বাড়ছে সহিংসতা ও উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যে সংগঠিত অপরাধচক্রগুলো পরিকল্পিতভাবে একের পর এক দোকান টার্গেট করছে বলে সতর্ক করেছে খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন। গত বছরে ৫.৫ মিলিয়ন দোকানচুরির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে খাতে আনুমানিক £৪০০ মিলিয়ন ক্ষতি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিস্থিতি এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কর্মীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

খাতটির শীর্ষ সংস্থা বিআরসি জানিয়েছে, দোকানকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এখন “মহামারির মতো” ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরে প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি অস্ত্র-সম্পর্কিত সহিংস ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন কর্মীরা। বার্ষিক জরিপ অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা কমে দৈনিক ১,৬০০-তে নেমে এলেও তা এখনও কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় তিনগুণের বেশি। শারীরিক হামলার ঘটনা প্রতিদিন গড়ে ১১৮টিতে স্থির রয়েছে।

বিআরসির প্রধান নির্বাহী হেলেন ডিকিনসন বলেছেন, সহিংসতা এখনও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে এবং কেউ যেন কাজে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত না থাকেন—তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি খুচরা অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের পক্ষ থেকে “নির্দিষ্ট সম্পদ বরাদ্দ” ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন আইন প্রস্তাব করেছে, যাতে খুচরা কর্মীর ওপর হামলাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং “স্বল্পমাত্রার” চুরির ক্ষেত্রে £২০০ সীমা তুলে দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত বিধানে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং বিলের অংশ হিসেবে আইনটি বর্তমানে পার্লামেন্টে প্রক্রিয়াধীন এবং বসন্তে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দোকানকর্মীদের ইউনিয়ন ইউএসডিএডাব্লিউ জানিয়েছে, দোকানচুরি কোনোভাবেই ‘ভিকটিমবিহীন’ অপরাধ নয়। এতে দোকান কর্মচারীরা ভিকটিম হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, খুচরা কর্মীদের ওপর দুই-তৃতীয়াংশ হামলার পেছনে চুরি বা সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা জড়িত। ধারাবাহিক অপরাধের মুখোমুখি হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয় চেকআউট ব্যবস্থার প্রসার পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ইতোমধ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং উন্নত নিরাপত্তা ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

সরকার আগামী তিন বছরে খুচরা অপরাধ মোকাবিলায় অতিরিক্ত £৭ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১৩,০০০ অতিরিক্ত নেবারহুড ও কমিউনিটি সাপোর্ট অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংগঠিত অপরাধচক্রগুলোর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান, তথ্য আদান-প্রদান ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাতটির প্রায় ৩০ লাখ কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, পুলিশ ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইমেনসা ল্যাবের ত্রুটির কারণে কোভিডে সম্ভাব্য ২৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনে স্ন্যাপচ্যাটে শিশু নিয়োগঃ আইফোন চুরিতে সক্রিয় অপরাধ চক্র

যুক্তরাজ্যে ল্যান্ডলর্ডদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু