TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে বাধ্যতামূলক ইটিএঃ বুধবার থেকে কার্যকর নতুন ডিজিটাল অনুমতি ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য বুধবার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ৮৫টি দেশের নাগরিকদের এখন থেকে ভ্রমণের আগে ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) নিতে হবে। সরকার বলছে, এই ডিজিটাল অনুমতি ব্যবস্থা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও নিরাপদ করবে।

এতদিন যারা ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্যে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ করতে পারতেন, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের জন্য ইটিএ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে একজন ভ্রমণকারী পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ছয় মাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে পারবেন। ইটিএর মেয়াদ থাকবে দুই বছর বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করা যাবে।

ইটিএ পেতে ব্যয় হবে ১৬ পাউন্ড, তবে ভবিষ্যতে তা ২০ পাউন্ডে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আবেদনকারীদের গুগল প্লে বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে নির্ধারিত অ্যাপ ডাউনলোড করে আবেদন করতে হবে। যোগাযোগের তথ্য, পাসপোর্টের বিস্তারিত, ছবি ও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জমা দিতে হবে। সাধারণত দ্রুত স্বয়ংক্রিয় উত্তর মিললেও অন্তত তিন কার্যদিবস হাতে রেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকার স্পষ্ট করেছে, ইটিএ থাকলেই যে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিশ্চিত হবে তা নয়। ভ্রমণকারীদের অবশ্যই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং অন্য কোনো জটিলতা থাকলে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে। বিমান, রেল বা জাহাজ কোম্পানিগুলোকে হোম অফিসের সঙ্গে ডিজিটাল যাচাইয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে; বৈধ ইটিএ ছাড়া কোনো যাত্রী যাত্রা শুরু করতে পারবেন না।

যারা শুধু যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর দিয়ে ট্রানজিট করবেন এবং ইমিগ্রেশন পার হবেন না, তাদের জন্য ইটিএ প্রযোজ্য হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে আগের মতো ভিসাই প্রয়োজন হবে। ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকদের জন্য ইটিএ বা ভিসা কোনোটিই লাগবে না। এছাড়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে—যেমন ফ্রান্স থেকে স্কুল ট্রিপ—ইটিএর প্রয়োজন হবে না।

নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দ্বৈত নাগরিকরা। যুক্তরাজ্য ও অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা ইটিএর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তাদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা অন্য দেশের পাসপোর্টের সঙ্গে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ বহন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে দেশে প্রবেশে বাধার মুখে পড়তে পারেন তারা।

অনেক দ্বৈত নাগরিক আগে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়াই যাতায়াত করতেন। কিন্তু এখন পাসপোর্ট বা প্রবেশাধিকার সনদ সংগ্রহ করতে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একটি ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ১০০ পাউন্ড এবং সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্টের জন্য ৫৮৯ পাউন্ড ফি দিতে হয়।

অনেকেই জানিয়েছেন, নিয়ম কার্যকরের সময় তারা বিদেশে থাকায় প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাননি।
হোম অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ইটিএ চালুর বিষয়ে প্রচার চলছে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই দ্বৈত নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যেই ইটিএ-সদৃশ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কানাডায় এর জন্য সাত কানাডিয়ান ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ দশমিক ২৭ মার্কিন ডলার ফি দিতে হয়। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম কার্যকরের মাধ্যমে ভিসামুক্ত ভ্রমণের যুগে একটি বড় পরিবর্তন এলো। ভ্রমণকারীদের জন্য এখন আগাম ডিজিটাল অনুমতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, নচেৎ সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই যাত্রা থেমে যেতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

অবশেষে ব্রিটেনে কমছে তেল ও দুধের দাম

ব্রিটিশ সিটিজেনদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী আনার ক্ষেত্রে নমনীয় হতে যাচ্ছে সরকার

যুক্তরাজ্যে সাত-সাত হামলার ২০ বছর পরও গভীর উদ্বেগে ব্রিটিশ মুসলমানরা